
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন প্রতিরোধে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীররক্ষা বাঁধে আবারও ধস নেমেছে। উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৬০ মিটার ব্লক পিচিং নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই স্থানে বারবার ধসের ঘটনায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ধসে যাওয়া অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বাঁধের এই অংশে ধস দেখা দেয়। সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী কোনো সমাধান নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণেই নদীর স্রোত বাড়লেই একই স্থানে বারবার ধস সৃষ্টি হচ্ছে। এতে উত্তর ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কাঁচকোল বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। তবে ২০১৮ সাল থেকেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দিতে শুরু করে। সর্বশেষ গত ১ জুলাই কাঁচকোল এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার ব্লক পিচিং নদীগর্ভে বিলীন হয়। সে সময় জিও ব্যাগ ফেলে ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই স্থানে আবারও ধস দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে ৪০০টি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া আরও ১২ হাজার জিও ব্যাগের অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী রোববারের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :