নবীনদের পদচারণায় প্রাণবন্ত ২০তম নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস | Daily AjKaler Kontho

নবীনদের পদচারণায় প্রাণবন্ত ২০তম নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস


জাককানইবি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুলাই ১৬, ২০২৬, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
নবীনদের পদচারণায় প্রাণবন্ত ২০তম নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও ২০ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো নবনির্মিত টিএসসি ভবনের অডিটরিয়ামে এই ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে নবীন শিক্ষার্থীদের কেক কাটা ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে শিক্ষার্থীদের একটি করে ফোল্ডার, নোটবুক, কলম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রদান করা হয়। এর আগে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে একটি র‍্যালি প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিন করে। শেষে বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ও ওরিয়েন্টেশন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান।

আগামী ২ বছরের মধ্যে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের ব্যবস্থা করা হবে উল্লেখ করে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা সবাই মেধাবী, তবে মেধার সাথে অধ্যাবসায় যোগ করেই তোমরা ভর্তির সুযোগ পেয়েছ। তোমরা যে যেখান থেকেই আসো না কেন, সবাই সমান। তোমাদের মধ্যে উঁচু-নিচু কোন ভেদাভেদ নাই, ঠিক কবি নজরুলের আদর্শে সবাই মানুষ। তবে তোমাদের শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, এক্সট্রা কারিকুলারেও দক্ষ হতে হবে। নিজেকে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে, সার্বিকভাবে উপযুক্ত মানুষ হয়ে বের হতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী ও উদ্বোধক সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। উদ্ভাবন হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের মানদন্ড। তাই গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান উদ্ভাবন করতে হবে। বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ, অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো এখনো চালু করা হয় নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার পথেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর একবার সমাবর্তন হওয়ায় আগামীতে প্রতি বছর সমাবর্তন করার আহ্বান জানিয়ে ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ত্রিশালে নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেছিলাম ত্রিশালে কবি নজরুলের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি ২০০৫ সালের ১ মার্চ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ২০০৬ সালের ২৫ মে শুভ উদ্বোধন করেন। সারা পৃথিবীতে এমন কোন বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়া যাবে না যেটা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এক বছরের মাথায় তার কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে। আমি এই অবদানের জন্য স্বরণ করতে চাই আমাদের বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রিয় আমাদের দেশনেত্রী বেগম মরহুমা খালেদা জিয়াকে।

এছাড়াও তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসকল ঠিকাদার তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করতে ব্যর্থ হবে তাদের তালিকা করে পরবর্তীতে কাজ না দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও ওরিয়েন্টেশন উপ-কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) ড. মো. আশরাফুল আলম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শওকত ইকবাল এবং ইইই বিভাগের মৃত্তিকা দত্ত প্রীতি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। আরও বক্তব্য রাখেন চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন সরকার।