
বোরো ও আমন চাষাবাদের মধ্যবর্তী সময়ে কম খরচে আউশ ধানের আবাদ খুবই লাভজনক। এক সময় নেত্রকোনা জেলায় ব্যাপক হারে আউশের আবাদ হতো। কিন্তু বর্তমানে আউশ আবাদের চিত্র খুব একটা চোখে পড়ে না। আউশ আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বীজ ও সারসহ সরকারি প্রণোদনা বাড়লেও দিন দিনই কমছে আউশ আবাদ। এ বছর জেলায় যে সব কৃষক আউশ আবাদ করেছেন পোকার আক্রমণের ফলে তারা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। তবে পোকা মাকড়ের এ আক্রমণ প্রতিহত করতে পারলে আউশ আবাদে বেশ লাভবান হতে পারবেন বলে জানান কৃষকরা।
আউশ আবাদের জন্য নেত্রকোনায় এ বছর ২ হাজার ৪০০ জন কৃষককে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার প্রদান করা হয় এবং ১ হাজার ৮৭২ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৭২ হেক্টর কম অর্থাৎ ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে সবুজ আউশের ক্ষেতে দোলছে কচি ধানগাছের শীষ। তবে পোকা মাকড়ের আক্রমণের ফলে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে বিভিন্ন বালাইনাশক পদ্ধতি অবলম্বন ও কীটনাশক প্রয়োগ করে পোকার আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
পোকা মাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারলে এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে আউশ আবাদে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। সরকারি প্রণোদনা প্রাপ্ত কৃষকদের আউশ আবাদ দেখে অন্যরাও কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন এবং আগামীতে তারা আউশ আবাদ আরো বাড়াবেন বলে জানান।
গত বোরো মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যার কারণে পানিতে ফসল তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকরা। তবে আউশের ফসল ভালো হলে সে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে প্রত্যাশা কৃষকের।
এদিকে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আউশ আবাদকারী কৃষকদের তারা সব সময় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছেন। তবে বন্যায় আউশের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ বছর আবাদ কম হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, আউশ আবাদে নেত্রকোনার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারি প্রণোদনা প্রদানসহ নানারকম কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।
প্রণোদনার তুলনায় নেত্রকোনায় আউশের আবাদ না বাড়লেও আগামীতে তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে এবং আউশ আবাদে কৃষকরা লাভবান হবেন- এমনটাই প্রত্যাশা কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কৃষকদের।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :