
সঙ্গীত মানেই যেখানে যন্ত্রের ছোঁয়া সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছেন নেত্রকোণার এক অটোচালক। কোন বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই মুখ আর হাতের সাহায্যে সৃষ্টি করছেন অনন্য সুর।
নেত্রকোণা সদর উপজেলার মোগাতী ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী জাহেদ মিয়া। পেশায় একজন অটোচালক হলেও তার পরিচয়ের আরেকটি দিক রয়েছে তিনি একজন সঙ্গীতপ্রেমী শিল্পী। দীর্ঘদিন ধরে বাউল গান গাওয়া ও বাঁশি বাজানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। তবে প্রায় দুই বছর আগে মাথায় আসে এক নতুন চিন্তা যন্ত্র ছাড়াই কি ভাবে সম্ভব সুর সৃষ্টি করা? সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় নিরলস সাধনা। দুই বছরের চেষ্টায় তিনি আয়ত্ত করেন এক ভিন্নধর্মী কৌশল মুখ ও হাতের সমন্বয়ে তৈরি করেন ‘সরাজ বাজনা’। তার এই ব্যতিক্রমী সুর এখন মুগ্ধ করছে পুরো এলাকাবাসীকে। প্রতিদিন সকালে অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন জাহেদ মিয়া। আর বিকেল হলেই চলে আসেন মোমেনের মোড়ে উজ্জ্বল মিয়ার চায়ের দোকানে। সেখানে বসে গান আর সরাজ বাজনায় জমিয়ে তোলেন আড্ডা।
চায়ের দোকানদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন জানান, আমাদের দোকানে প্রায় ৭-৮ বছর যাবৎ আসে। সে সকালে অটো চালায় পরে বিকালে দোকানে বসে সবাইকে নিয়ে আড্ডা দেয় ও গান গায়। প্রতি শুক্রবারে তাদের এখানে উরস হয় এখানে সে গান গায় ও সরাজ বাজনা বাজান।
স্থানীয় রা জানান উনি শিল্প সাংস্কৃতিক ভালবাসে উনি যন্ত্র পাতি ছাড়া বাজান আর আমরা গান গাই প্রায় সময়ই আমরা আড্ডা দেই এবং প্রতি শুক্রবারে আমাদের মাজারে উরস হয় এখানে ও আমরা গানের আসর করি, উনাকে বাজনা শুনতে দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসে। উনি একজন ভাল মনের মানুষ। উনি দীর্ঘ দিন সাধনা করে এই বাজনা শিখেছেন কিন্তু এখন শুনতে খুব দারুন লাগে কিন্তু উনি গরিব মানুষ অটো চালিয়ে জীবন যাপন চালান।
জাহেদ মিয়া বলেন, আগে বাউল গান গাইতাম, বাঁশি বাজাতাম। পরে ভাবলাম যন্ত্র ছাড়া যদি কিছু করা যায়। দুই বছর চেষ্টা করে এখন এই সরাজ বাজনা করতে পারি। মানুষ শুনতে আসে এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।
যেখানে যন্ত্র ছাড়াই সৃষ্টি হয় সুরের জাদু সেখানে শিল্পী আর তার সাধনাই হয়ে ওঠে আসল শক্তি।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :