
নওগাঁর রাণীনগরে সালিশী বৈঠকে কথা কাটাকাটির জের ধরে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ১৫জন আহত হয়েছে। আহতদের রাণীনগর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুরে উপজেলার পারইল ইউনিয়নের ভান্ডারগ্রাম নওপুকুরিয়া গ্রামে। এঘটনায় ওই এলাকায় পক্ষে বিপক্ষে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উপজেলার পারইল ইউনিয়নের নওপুকুরিয়া গ্রামের মজিবর কাজীর ছেলে ফারেস কাজী (৩২) জানান, এই গ্রামের এছাহক ফকিরের ছেলে আদম ফকির (২৫) বিদেশ থেকে গত ১৫ দিন আগে দেশে আসে। তার ১ম স্ত্রী থাকার পরও জৈনিক ৪০/৪৫ বছর বয়সি এক নারীকে ২য় বিয়ে করে বিভিন্ন স্থানে ঘোড়াফেরা করে দুই দিন আগে ওই মেয়েকে নিয়ে বাড়ীতে আসে।
এঘটনায় ওই মেয়ে পক্ষের লোকজন শুক্রবার রাতে এছাহক ফকিরের উঠানে সালিশী বৈঠকের আয়াজন করে। বৈঠকের সময় মেয়ে পক্ষের লোকজন কাজী বংশের লোকজনকে সহায়তা করার জন্য ডেকে নেয়। এতে ১ম পক্ষের স্ত্রীর স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ১ম স্ত্রীর বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি না থাকায় ১ম স্ত্রীর পক্ষের লোকজন ২০লাখ টাকা দেন মোহর ধার্য করে কাবিন রজিস্ট্রির দাবি জানায়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে আলাচনা শেষে ১২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বৈঠকেই কাবিন রজিস্ট্রি করা হয়। এর পরই কাজী বংশের লোকজন এবং এছাহক ফকিরের লোকজনের মধ্যে কথা কাটা-কাটির এক পর্যায়ে ধাক্কা-ধাক্কি শুরু হয়। ফারেস কাজী দাবি করে বলেন, এঘটনার জের ধরে শনিবার দুুপুর ১১টায় আব্দুস সাত্তার কাজীর ছেলে রুহুল আমিন কাজী (৩০) এছাহক ফকিরের বাড়ীর সামনে দিয়ে যাবার সময় এছাহক ফকির ও তার লোকজন রুহুল আমিনকে মারধর শুরু করে। এমন খবর ছড়িয়ে পরলে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আব্দুল কুদ্দুস কাজী (২৮), জাহাঙ্গীর (৩৬), নুর ইসলাম (৩৮), হেলাল (৪২), রেজাউল ইসলাম রাব্বানী (৩৮), ফাহিম (২৬), শিহাব কাজী (১৫), আসমা খাতুন (৪০), দিলবর (৪৫,) এছাহক ফকির (৫৫), ইসরাফিল (৩৫), জাহিদুল (৪২), রিপন (১৮), আব্দুল (৩২) ও জিয়াউর ফকির (৪০) সহ উভয় পক্ষের প্রায় ১৫জন আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাণীনগর ও আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করায়।
এঘটনায় এছাহক ফকির বলেন, শুক্রবার রাতে সালিশী বৈঠকে কাজী পরিবারের লোকজনের সাথে দ্বন্দ্ব হয়েছে। আমরা আগে মারধর করিনি দাবি করে তিনি বলেন, রাতে সালিশী বৈঠকে জের ধরে শনিবার দুপুরে হঠাৎ করেই তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের পক্ষের ৬জন আহত হয়েছে।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্সলে পুলিশ পাঠিয়েছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এঘটনায় এখনো কোন পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেনি।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :