তনু হত্যা মামলায় অগ্রগতি: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ড | Daily AjKaler Kontho

তনু হত্যা মামলায় অগ্রগতি: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ড


কাজী শরীফ, কুমিল্লা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ন
তনু হত্যা মামলায় অগ্রগতি: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ড

দীর্ঘ এক দশক পর আলোচিত তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।

গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন এবং তনু হত্যার সময়ও সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মো. মমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন তনুর বাবা-মা ও ভাই।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে আদালতে হাজির হন তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মিলানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। সন্দেহভাজনদের মধ্যে রয়েছেন হাফিজুর রহমান ছাড়াও তৎকালীন সেনাসদস্য সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম, যারা বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত।

তবে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন দাবি করেছেন, ‘শাহীন আলম’ নামে কাউকে তারা শুরুতে জানতেন না; বরং ‘জাহিদ’ নামটি শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, যা এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার কাছে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দুই দফা ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের আলামত পাওয়া যায়, যা মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করে।

দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এই আলোচিত মামলায় সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার ও ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগে নতুন করে ন্যায়বিচারের আশা দেখছেন তনুর পরিবারসহ দেশবাসী।

আজকালের কন্ঠ/আর বি