উলিপুর থানার ওসিকে মাহবুবার রহমানের লাঠিয়াল বাহিনী দ্বারা অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ | Daily AjKaler Kontho

উলিপুর থানার ওসিকে মাহবুবার রহমানের লাঠিয়াল বাহিনী দ্বারা অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ


কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : মার্চ ১৬, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
উলিপুর থানার ওসিকে মাহবুবার রহমানের লাঠিয়াল বাহিনী দ্বারা অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে হামলা মামলার আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, রোববার (১৫ মার্চ) উপজেলার গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকায়।

‎এক মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশ ওই এলাকায় গেলে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রেখে মব সৃষ্টি করা হয়। এ সময় একদল নারী-পুরুষ পুলিশে ওপর চড়াও হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যায়।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকার মাহাবুবার রহমানের (৪৫) সঙ্গে প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সরকারের (৭০) দীর্ঘদিন থেকে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের কারণে একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। অপর দিকে ১০ মার্চ মাহাবুবার রহমান ও তাঁর ভাই মিজানুর রহমানের (৩০) নেতৃত্বে এলাকায় তৈরী করেন লাঠিয়াল বাহিনী এর মাধ্যমে মাহবুবার রহমান এলাকায় বরাবরই জোর জবরদস্তি করোন, এর পেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় আসামিরা বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সামছুন্নাহার বেগম, মেয়ে আফ্রিদা আজিজ সাথীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে এবং বসতঘরে থাকা আসবাব ভেঙে টাকা চুরি করে, এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেন এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধূ হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দেন। এরপর থানা-পুলিশ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে রোববার মামলা গ্রহণ করা হয়।

‎বাদী হাজেরা খাতুন বলেন, ‘মাহাবুবার রহমান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমার শ্বশুর স্ট্রোকের রোগী হওয়ায় চলাফেরা করতে পারেন না। এ ছাড়া স্বামী চাকরির সুবাদে বাইরে থাকায় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকে না। এ সুযোগে তারা বাড়িতে থাকা মহিলাদের সব সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। হামলার ঘটনায় মাহাবুবার রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি।’

‎জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাহাবুবার রহমান মোবাইল ফোনে তাঁর বাড়িতে পুলিশ আসার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। আমরা কারও বাড়িতে আক্রমণ করিনি। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা মামলা নিয়েছে। পরপর দু’বার পুলিশ এসেছিল। পুলিশ মামলার কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার তথ্যর ব্যাপারে থানায় ডাকে।’ পুলিশকে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা মিথ্যা হওয়ায় প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেছে।’

‎এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, ‘মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলায় তাঁর পুত্রবধূ ১১ মার্চ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রোববার থানায় মামলা হয়। পরবর্তীকালে পুলিশ অভিযানে গেলে আসামিরা নারী ও ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে এলাকায় মব সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। পরে আমি ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুনরায় মব সৃষ্টি করে আমাকেও অবরুদ্ধ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি