যমুনা সার কারখানায় শ্রমিকদের কর্ম বিরতি | Daily AjKaler Kontho

যমুনা সার কারখানায় শ্রমিকদের কর্ম বিরতি


সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৩, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ন
যমুনা সার কারখানায় শ্রমিকদের কর্ম বিরতি

মজুরির দাবিতে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেড গতকাল শনিবার সকাল আটটা থেকে ছবিটা কাজে যোগদান না করে কর্মবিরতি করেছেন।

যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেড ও কারখানা শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দিতে এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম দানাদার ইউরিয়া সার কারখানা ১৯৯১ সালে স্থাপিত হয় ‌। কারখানায় উৎপাদনের পর থেকেই দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে শ্রমিকরা কারখানার বিভিন্ন শাখায় কাজ করে আসছেন। কারখানায় দক্ষ ও অদক্ষ ২৩৯ জন শ্রমিক কাজ করে আসছেন।২০২৫ সালের 1 সেপ্টেম্বর চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য মেসার্স আল-মুমিন আউটসোর্সিং সার্ভিস লিমিটেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কারখানার কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের দৈনিক মজুরি পরিশোধ করা হলেও ঠিকাদার শ্রমিকদের নভেম্বর মাসের মজুরি পরিশোধ করেননি। ঠিকাদার আল মুমিন ২৩৯ জন দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিক কর্মচারীর মজুরি বাবদ ৩৫ লাখ ৫৭ হাজার ২৫৭ টাকা ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর চেকের মাধ্যমে কারখানা পরিশোধ করেন। এরপর থেকে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ না করে ঠিকাদার পলাতক রয়েছেন ‌। ঠিকাদার পলাতক থাকায় নভেম্বর ডিসেম্বর মাসের শ্রমিকদের মজুরি বকায়া রয়েছে।

শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি দাবিতে গতকাল শনিবার কারখানার প্রধান ফটকের ও প্রশাসনিক ভবনের সমানে সকাল আটটা থেকে কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরোধী পালন করেছে।

কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক প্রশাসন দেলোয়ার হোসেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দুটি পত্র দিলেও শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হয়নি।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রম িক বাবলু মিয়া, আব্দুর রহিম, বেলাল হোসেন, বলেন, ঠিকাদার আমাদের নভেম্বর মাসের মজুরি না দিয়ে পলাতক রয়েছে। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্ট আছি। ‌এরপর তাই কারখানা কর্তৃপক্ষ ডিসেম্বর মাসে মজুরি পরিষদ করেনি। আরো বলেন আমাদের মজুরি পরিশোধ না করা পর্যন্ত আমরা কাজে যোগদান করবো না। মজুরি পরিশোধ না করায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতার জীবন যাপন করেছি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আল মুমিন বলেন, একটু সমস্যায় আছি। কারখানা থেকে নভেম্বর মাসের শ্রমিকদের মজুরি চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। কারখানার প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি হলেই শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হবে।

কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক প্রশাসন মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঠিকাদার আল মুমিন কারখানার ২৩৯ জন শ্রমিকের মজুরি চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে ঠিকাদার পালিয়েছে। এখন আমরা সমস্যায় রয়েছি। শীঘ্রই শ্রমিকদের মজুরি পরিষদের জন্য ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন কারখানার ফটক ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে শ্রমিকরা মজুরির দাবিতে কর্মবিরোধী পালন করেছে ‌।

আজকালের কন্ঠ/আর বি