আমাদের হাতে সময় নেই, ৫০ হাজার টাকা না দিলে মরতে হবে; রাণীনগরে চিঠি দিয়ে যুবক'কে হুমকি | Daily AjKaler Kontho

আমাদের হাতে সময় নেই, ৫০ হাজার টাকা না দিলে মরতে হবে; রাণীনগরে চিঠি দিয়ে যুবক’কে হুমকি


রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১, ২০২৫, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
আমাদের হাতে সময় নেই, ৫০ হাজার টাকা না দিলে মরতে হবে; রাণীনগরে চিঠি দিয়ে যুবক’কে হুমকি

ছোট ভাই আমাদের হাতে সময় নেই, ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। তা না হলে রাজুর মত তোমাকে মরতে হবে, তাই বলছি ভুল যেন না হয়। এভাবেই মোকাদ্দেস হোসেন খান সঞ্চয় নামে এক যুবককে চিঠি দিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের দুর্গাপুর খানপাড়া গ্রামে ভোরের দিকে সঞ্চয়ের বাড়ির বারান্দায় কে বা কাহারা (দুর্বৃত্ত) হাতে লেখা এই চিঠিটা রেখে আসে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ‘টক অব দি ভিলেজ’ পরিণত হয়েছে। এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

হুমকির শিকার মোকাদ্দেস হোসেন খান সঞ্চয় ওই গ্রামের মৃত মোতাহার হোসেন খানের ছেলে।

গাইড বইয়ের কভারে হাতে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, সঞ্চয় ছোট ভাই আশা রাখি ভাল আছ। ভাই আমাদের হাতে সময় নেই, তাই বলছি আগামী ৫ তারিখ ৫০ হাজার টাকা আমাদের দিতে হবে। তা না হলে রাজুর মত তোমার কিন্তু মরতে হবে, তাই বলছি ভুল যেন না হয়। পরে ৫ লক্ষ টাকা দিলেও আমাদের প্রয়োজন হবে না। রাজুর কাছে কিন্তু ৩ লক্ষ টাকা ছিল, আমরা নেই নাই। কারণ সে তারিখ মিছ করছে এবং গোপনে তথ্য জানার চেষ্টা করেছিল, যার কারণে তাকে বিদায় করে দিয়েছি। তাই তোমাকে বলছি ভুল যেন না হয়। আগামী ৫ তারিখ টাকা একটি ব্যাগে করে তোমার বাড়ির গেটের শিড়ির পূর্ব সাইটে রাখবে। রাত ২/৩ টার সময় নিয়ে আসবো। কোনো রকম চালাকি করার চেষ্টা করলে, তাহলে ভাই তোমার সব কিছু পড়ে থাকবে শুধু থাকবে না তুমি। দেহ এক জায়গায় আর মাথা এক জায়গায় থাকবে। তাই বলছি ৫ তারিখ যেন মিস না হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী মোকাদ্দেস হোসেন খান সঞ্চয় বলেন, আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় ওই চিঠি দেখতে পাই। বুধবার ভোরের দিকে কে বা কাহারা গ্রিলের ভেতর দিয়ে ফেলে দিয়ে গেছে। চিঠিটা হাতে পেয়ে পড়ে দেখি চিঠিতে ওসব লেখা। বিষয়টি স্থানীয় সামিউল আলম তুষারসহ এক বড় ভাইকে প্রথমে জানাই। এরপর প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যদিও আমি ভীত বা আতঙ্কিত নয়। তারপরও বিষয়টি এলাকার জন্য খারাপ এবং বিষয়টি সেনসেটিভ। আশা করছি, প্রশাসন তাদের টেকনোলজি ব্যবহার করে এই চিঠির জট উদঘাটন করবে। আর যে বা যাহারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সামিউল আলম তুষারসহ অনেকে। তারা বলেন, সঞ্চয় কে চিঠি দিয়ে হুমকি দেওয়ার এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ ২০০৫ সালে রাজু নামে এক যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেসময় রাজুর মাথার মগজ গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল । যার কারণে বিষয়টি সহজভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা স্থানীয়রা চরম আতঙ্কে আছি। তাই আমাদের দাবি, এই ঘটনা যে বা যারা ঘটিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। তারা আরও বলেন, সঞ্চয় আমাদের বিষয়টি অবগত করে। এরপর আমরা তাকে প্রশাসনের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এই বিষয়টির সুরাহা হওয়া উচিৎ। কারণ চিঠি দিয়ে হুমকি দেওয়া এই বিষয়টি কারও কাম্য নয়। এছাড়া এর আগে এই এলাকায় রাজু নামের যে যুবককে হত্যা করা হয়েছিল তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন ছিল।

এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। পুলিশ সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে আসবে। আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেব।

উল্লেখ্য, গত ২০০৫ সালে পার্শ্ববর্তী কাজিপাড়া এলাকার রাজু নামের এক যুবক কুজাইল বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুজাইল বালিকা বিদ্যালয় এলাকায় খুন হোন। সেসময় তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে মাথার মগজ একটি গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

আজকালের কন্ঠ/আর বি