
নড়াইলে লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাুশিত কোলা উত্তর পাড়া গ্রামের কোলা টু নোয়াপাড়া টু কুচিয়াবাড়ি সংযোগ রাস্তাটি প্রায় ৪০ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় আছে। এই রাস্তাটি দিয়ে অন্তত ১০ গ্রামের মানুষজন আসা যাওয়া করেন। দিঘলিয়া, লক্ষীপাশা ও মল্লিকপুর এই তিনিটি ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক এটি। প্রতিদিন অন্তত হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। কয়েকটি গ্রামের ফসল এই রাস্তা দিয়ে আনা-নেওয়া করতে হয়। সরকারের কাছে এলাকার মানুষের দাবী রাস্তাটি যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়।
জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের কোলা গ্রামে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সর্বোচ্চ সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার বসবাস এই গ্রামে। এই গ্রামের বুক চিরে লক্ষীপাশা টু মহাজন সড়ক অবস্থিত কিন্তু বড় পরিতাপের বিষয় হলো কোলা উত্তর পাড়া থেকে নোয়াপাড়া গামী যে রাস্তাটি গিয়েছে আজ পর্যন্ত কোন উন্নয়ন এর ছোয়া লাগে নাই। এই রাস্তা দিয়ে প্রতি দিন হাজার মানুষের চলাচল। চার গ্রামের কৃষকদের ফসল নেওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। আর এই রাস্তা তিন ইউনিয়নের সীমানা জুড়ে অবস্থিত। ১৯৭৮ সালের দিকে এই রাস্তা ইট বিছিয়ে তৈরী করা হয়েছিলো। সেই থেকে আজ অবদি কোন সংস্কার হয় নাই। রাস্তাটি ভেঙ্গে খানা-খন্দে পরিনত হয়েছে যার জন্য সম্পূর্ণ চলাচলে অনুযোগী হয়ে গিয়েছে।
সরেজমিনে গেলে কোলা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. হালিম শেখ, মো. সাহাদাত হোসেন, মো. আকবার হোসেন, মো. ছালাম শেখ, মো. হান্নান শেখ, ইউপি সদস্য মো. জামাল হোসেন, কৃষক ফায়েক হোসেন, নওশের মৃধা, লায়েক হোসেন ও হানেফসহ অনেকে বলেন এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার মানুষের চলাচল। আমাদের এই রাস্তা দিয়ে ফসল বাড়ি আনতে হয়। এই গ্রামে লোহাগড়া উপজেলার সবথেকে বেশি মুক্তিযোদ্ধার বসবাস। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গ্রামের রাস্তাটি আজও উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি বিষয়টি সত্যিই আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। বিগত দিনে যারা এমপি, চেয়ারম্যান হয়েছেন তাদের কাছে লিখিত ভাবে দরখাস্ত দেওয়া হলেও তাতে কোন লাভ হয়নি। সবাই আশ্বাসের বানী শোনালেও কেউ রাস্তাটি করে দেয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের প্রাণের দাবী যেন অতিদ্রুত রাস্তাটি পাকা করনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার কাজী আবু সাঈদ মো. জসিমের সাথে কথা হলে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, এই অর্থ বছরের মধ্যে যেকোন প্রকল্পের আওতায় এনে রাস্তাটি পাকা করনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :