
চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুর—সব জায়গায় অভিযোগের পাহাড়; কোটি টাকার ভুয়া বিল-ভাউচারের তদন্ত দাবি । দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি ,সব অভিযোগ সত্ত্বেও প্রতিটি আমলেই বেকসুর খালাস! সরকারি প্রকৌশল বিভাগে আলোচিত নাম এখন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) ই সিটিতেই তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছ কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম, ভুয়া বিল, অবৈধ নিয়োগ, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
দুর্নীতির নানা অভিযোগে জর্জরিত হয়ে ২০২২ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে বদলি হন সুদীপ বসাক। চট্টগ্রামে তিনি ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক প্রকল্পে দরপত্র জালিয়াতি, আত্মসাৎ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। দুদকের গণশুনানিতেও চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে তার নামেই।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৬ সালে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে (নো ওয়ার্ক নো পে) উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগ দেন তিনি। ২০০৯ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে চাকরি নিয়মিত করা হয়, যা চাকরিবিধি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দ্রুত সময়ে তিনি পদোন্নতি পেয়ে যান সহকারী প্রকৌশলী ও পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে।
এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন। “নিয়ম অনুযায়ী তার বর্তমান পদে থাকার যোগ্যতা নেই। তবে তিনি যদি প্রধান প্রকৌশলীও হয়ে যান, আশ্চর্য হব না। কারণ অদৃশ্য শক্তিই যেন তার প্রধান যোগ্যতা।”জানা গেছে, তার পদোন্নতির বিরুদ্ধে এক সহকর্মী হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে আদালত স্থগিতাদেশ দেন, কিন্তু চসিক কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে সুদীপ বসাককে পদোন্নতি দেয়।
বর্তমানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এখানেও অভিযোগের শেষ নেই মাস্টাররোল কর্মচারীদের স্থায়ী করার নামে ১,২২৫ জনের কাছ থেকে সম্মানি আদায় এবং সেই টাকার ভাগবাঁটোয়ারা করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।অথচ অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী দৈনিক বা অস্থায়ী ভিত্তিতে কোনো নিয়োগই বৈধ নয়।
তাছাড়া,ওয়াকিটকি ক্রয়ের নামে ভুয়া দরপত্রের মাধ্যমে দারাজ ও আলিবাবায় ৪,৫০০–৬,৫০০ টাকার পণ্য ৮৫ হাজার টাকায় ক্রয়ের বিল দেখানো হয়।কইভাবে “টোটাল এক্সেসরিস” নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি টাকার অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক পণ্য ও কালির বিল উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, জয়দেবপুর শাখা থেকে কোটি টাকার চেক ইস্যু করে পণ্য স্টোরভুক্ত দেখানো হয়, অথচ বাস্তবে তা বিতরণ করা হয়নি সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর পদ শূন্য হওয়ার পর সেই পদে বসার জন্য সুদীপ বসাকের তীব্র লবিং চলছে—এমন খবর ছড়িয়েছে গাসিকপাড়ায়।
সূত্র বলছে, তিনি সিইও ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে তদবির করছেন গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিক অধ্যাপক মাসুদুল হক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি অভিযোগে সুদীপ বসাকের অবৈধ নিয়োগপত্র ও পদোন্নতি বাতিল, এবং অবৈধভাবে প্রাপ্ত বেতন–ভাতা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সুদীপ বসাককে একাধিকবার ফোনে পাওয়া যায়নি।চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুর—ই সিটিতেই অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত এই কর্মকর্তা কীভাবে একের পর এক পদোন্নতি ও প্রভাব অর্জন করেছেন, তা এখন বড় প্রশ্ন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে জনমনে।
আপনার মতামত লিখুন :