‘তুহিনকে মা প্রায়ই বলতো সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতে’ | Daily AjKaler Kontho

‘তুহিনকে মা প্রায়ই বলতো সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতে’


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৮, ২০২৫, ৫:৩৪ অপরাহ্ন
‘তুহিনকে মা প্রায়ই বলতো সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতে’

অনলাইন ডেস্ক : দুই দিন আগেই বাবার ওষুধ ও বাজার করার জন্য টাকা পাঠিয়েছিল ছেলে। এ সপ্তাহে বাড়িতে এসে মায়ের চোখের ছানি অপারেশন করতে গাজীপুরে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের। সেই তুহিনের লাশ আজ আসছে বাড়িতে। এসব কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অসুস্থ বৃদ্ধা মা সাবিয়া খাতুন বকুল ও বাবা হাসান জামিল। সন্তানের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে গাজীপুরের চান্দনা এলাকায় তুহিনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামিলের পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তুহিন। আজ বাদ মাগরিব জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ির পূর্ব পাশে তার দাফন সম্পন্ন হবে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, তুহিন ২০০২ সালে স্থানীয় আলহেরা একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ২০০৪ সালে সিলেটের এম সাইফুর রহমান কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। এরপর থেকেই গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি একটি ক্লিনিকও পরিচালনা করতেন তিনি।

নিজ গ্রামের অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবায় সহযোগিতা করতেন তুহিন। তার মানবিক গুণাবলীর জন্য গ্রামে বেশ পরিচিত ছিলেন। গ্রামের অনেক যুবককে কর্মসংস্থানও করে দিয়েছিলেন তিনি।

তুহিনের বড় বোন রত্না বেগম বলেন, আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করল। না মেরে একটা হাত, একটা পা ভেঙে দিত, পঙ্গু হলেও তো বেঁচে থাকতো। আমার দুই ভাইপো এতিম হয়ে গেল, স্ত্রী বিধবা। ওদের এখন কী হবে?’ তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান।

অসুস্থ বাবা হাসান জামিল বলেন, আমার সহজ-সরল ছেলেটাকে তার মা বারবার সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতে বলেছিল। কিন্তু ছাড়েনি। সেই সাংবাদিকতা করতে গিয়েই আমার ছেলে হত্যার শিকার হলো।

তুহিনের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রামের মানুষ হতবাক। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

আজকালের কন্ঠ/আর বি