
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : “কুয়াকাটা বাঁচাও, পর্যটন বাঁচাও” – এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম সমুদ্র পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় কুয়াকাটার ডিসি পার্ক এলাকার সৈকত সড়কে স্থানীয় হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী, দোকান মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী–পেশার ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, কুয়াকাটা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত এবং সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হলেও, অব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও পরিকল্পনার অভাবে পর্যটন শিল্প মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে। সৈকত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।
তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, সৈকতের ভাঙন ও বালু ক্ষয়ের কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত কুয়াকাটা পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, সৈকত ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সরকারি নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান হাওলাদার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুয়াকাটা পৌর শাখার সাবেক আমির মাওলানা মোঃ মাইনুল ইসলাম মান্নান, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি রোমান ইমতিয়াজ তুষার, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি। মানববন্ধনে স্থানীয় সাধারণ মানুষও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারিকুজ্জান তুহিন বলেন, নিন্মচাপ ও জোয়ারের ঢেউয়ের তান্ডবে গত দুই দিনে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ব্যাপক ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। যা আমরা পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি। আগামীকাল থেকে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব স্থাপনের কাজ শুরু করবো। এতে অস্থায়ীভাবে কিছুটা হলেও ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
আজকালের কন্ঠ /আর এস /মিজান
আপনার মতামত লিখুন :