ঈদুল আযহার চতুর্থ দিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর কুয়াকাটা সৈকত | Daily AjKaler Kontho

ঈদুল আযহার চতুর্থ দিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর কুয়াকাটা সৈকত


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুন ১০, ২০২৫, ১:৫৩ অপরাহ্ন
ঈদুল আযহার চতুর্থ দিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর কুয়াকাটা সৈকত

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : পবিত্র ঈদুল আযহার চতুর্থ দিনেও উৎসবের আমেজে মুখর দেশের অন্যতম সমুদ্রভ্রমণ কেন্দ্র কুয়াকাটা। ঈদের ছুটিতে স্বজনদের নিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে এই সমুদ্র সৈকত। সৈকতের প্রতিটি প্রান্তে এখন উপচে পড়া ভিড়, হাসিমুখ আর আনন্দমুখর পরিবেশ।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। ঈদের দ্বিতীয় দিন বিকেল থেকেই পর্যটকদের ঢল নামে সৈকতে, যা এখনো অব্যাহত। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একসঙ্গে দেখার দুর্লভ সৌন্দর্য, ঢেউয়ের গর্জন আর সাগরের বিশালতায় মোহিত হচ্ছে পর্যটকরা। কুয়াকাটা যেন পরিণত হয়েছে এক উৎসবমুখর নগরীতে।

হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের আগে থেকেই অধিকাংশ আবাসনকেন্দ্র বুকিং হয়ে যায়। অনেক পর্যটক আগাম অনলাইন বুকিং করে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে। সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত টহল, সিসিটিভি নজরদারি ও কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

খুলনা থেকে আগত পর্যটক লায়েকুজ্জামান লাক্কু জানান, “প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা থেকে কিছুটা অবসর পেয়ে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরিবিলি পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করেছে।”স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, ঈদ মৌসুমে পর্যটক সমাগম বাড়ায় হোটেল, রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট ও পরিবহন খাতে ব্যবসা ভালো হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে এসেছে নতুন চাঙ্গাভাব।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিওনের পরিদর্শক (ইনচার্জ) তাপস চন্দ্র রায় জানান, “পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একসঙ্গে উপভোগ করা যায়, যা পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ। ঈদ উপলক্ষে এই মনোরম স্থানটি ঘিরে বেড়েছে আগ্রহ ও উপস্থিতি।তবে পরিবেশ সচেতন মহল পর্যটকদের প্রতি সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন থাকে।