
আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম মে মাসে সামান্য কমেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, শস্য, চিনি ও ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস এ পতনের মূল কারণ। তবে গরুর মাংস ও মাখনের দাম রয়েছে রেকর্ড উচ্চতায়। খবর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)
শুক্রবার (৬ জুন) প্রকাশিত এফএওর মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে এফএও খাদ্য মূল্য সূচক গড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৭.৭ পয়েন্ট, যা এপ্রিলের তুলনায় ০.৮ শতাংশ কম। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সূচকটি এখনো ৬ শতাংশ বেশি।
শস্য ও তেলের বড় পতন
এফএওর শস্য মূল্য সূচক মে মাসে ১.৮ শতাংশ কমেছে এবং ২০২৪ সালের মে মাসের তুলনায় এখন তা ৮.২ শতাংশ নিচে। ভুট্টার দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে, যা দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী উৎপাদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড ফসলের প্রত্যাশার ফল। গমের দামও কিছুটা কমেছে, তবে চালের দাম বেড়েছে ১.৪ শতাংশ।
একইভাবে, ভোজ্যতেলের দাম মে মাসে ৩.৭ শতাংশ কমেছে। পাম, সয়া, সূর্যমুখী ও রেপসিড সব ধরনের তেলের আন্তর্জাতিক দাম কমেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে পাম তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।চিনির মূল্য সূচকও কমেছে ২.৬ শতাংশ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং খাদ্য ও পানীয় খাতে সম্ভাব্য কম চাহিদার প্রেক্ষিতে।
মাংস ও দুগ্ধপণ্যে উল্টো চিত্র
অন্যদিকে, মে মাসে মাংস মূল্য সূচক বেড়েছে ১.৩ শতাংশ। গরুর মাংসের দাম পৌঁছেছে নতুন রেকর্ডে। ভেড়া মাংসের দামও বেড়েছে। তবে মুরগির মাংসের দাম কমেছে, কারণ ব্রাজিলে বার্ড ফ্লু শনাক্তের পর অনেক দেশ আমদানি বন্ধ করেছে, ফলে দেশটিতে অতিরিক্ত সরবরাহ সৃষ্টি হয়েছে।এফএও জানিয়েছে, মে মাসে দুগ্ধপণ্যের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়েছে। এশিয়ায় মাখনের প্রতি উচ্চ চাহিদা এবং পনির ও গুঁড়া দুধের বাজার চাঙ্গা রয়েছে।
শস্য উৎপাদনে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত
শুক্রবারই প্রকাশিত এফএও’র ‘শস্য সরবরাহ এবং চাহিদা সংক্ষিপ্তসার’ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন নতুন রেকর্ড ২ হাজার ৯১১ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে। যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২.১ শতাংশ বেশি।
বিশ্বব্যাপী শস্য ব্যবহার ২০২৫/২৬ মৌসুমে ০.৮ শতাংশ বেড়ে ২৮৯৮ মিলিয়ন টনে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যবহারের চেয়ে বেশি হওয়ায় বৈশ্বিক মজুত কিছুটা বেড়ে ৮৭৩.৬ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া, বৈশ্বিক শস্য বাণিজ্য ১.৯ শতাংশ বেড়ে ৪৮৭.১ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে, যেখানে গমের বাণিজ্য বাড়লেও চালের বাণিজ্য সামান্য কমতে পারে।এফএও জানিয়েছে, ১২ জুন প্রকাশিতব্য ‘Food Outlook’ প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের বাজার বিশ্লেষণ আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :