
সোহেল রানা প্রতিনিধি, তারাগঞ্জ (রংপুর): রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার অনাবাদি পতিত জমি ও বসত বাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারক পুষ্টি বাগান প্রকল্পের মূল উদ্দেশকে বাস্তবায়ন করে চলছেন ঘনীরামপুর ব্লকের গোমস্তাপাড়া গ্রামবাসী। তাদের উৎসাহ এবং উদাহরণ হয়ে উঠেছেন মো: জাহেদুল ইসলাম। যাকে সকাল সন্ধ্যা একটি বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পর করতে দেখা গেছে।
তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে বসত বাড়ির পাশে পতিত জমিতে ১টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান (কালিকাপুর মডেলে ) স্থাপনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তিন মৌসুমের বীজ, সার, সাইনবোর্ড, নেট সহ অন্যান্য দ্রব্যাদি সহায়তা করা হয়।
কৃষক জাহেদুল ইসলাম নিজের নিষ্ঠ, শ্রমের মাধ্যমে পারিবারিক পুষ্টি বাগানটিকে দর্শনীয় স্থানে পরিণত করছেন। কালিকাপুর মডেল অনুযায়ী পাচটি বেডে পাচরকম শাক সবজি এবং মাচায় লতানো সবজি চাষের পাশাপাশি তিনি নিজস্ব উদ্ভাবনী জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বস্তায় হলুদ, আদা, মরিচ সহ বিভিন্ন শাকসবজির উৎপাদন করে চলেছেন।
প্রতি মাসে পুষ্টি বাগান থেকে তিনি প্রায় 60 (ষাট) কেজি মৌসুম ভিত্তিক বিভিন্ন শাক- সবজি উৎপাদন করে যা থেকে নিজ পরিবারের চাহিদা মেটানো, আত্মীয় স্বজনকে উপহার হিসেবে দিয়ে থাকেন এবং কিছু অংশ বিক্রয় করছেন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৫০০/-( এক হাজার পাঁচশত) টাকা। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে পরিবেশ বান্ধব হলুদ আঠালো ফাদ ব্যবহার, সেক্স ফেরোমন ফাদ ব্যবহার করেন।
তিনি উদ্বদ্ধ হয়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করেন এবং উক্ত উৎপাদিত সার তার বাগানে ব্যবহার করেন। অপ্রয়োজনে বালাই নাশকের ব্যবহার তিনি করেন না। ফলে তার পুষ্টি বাগানে বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষক জাহেদুল ইসলাম এর কার্যক্রমে গ্রামের অন্যান্য কৃষকরা পুষ্টি বাগান করায় আগ্রহ প্রকাশ করলে উপজেলা কৃষি অফিস বিভিন্ন সময়ে ২৩টি প্রদর্শনী ও পুনঃস্থাপন প্রদান করছে। পুষ্টি বাগান প্রাপ্ত কৃষকেরা সবাই ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদন করছেন।
আবার কেউ কেউ বস্তায় সবজি, আদা ও হলুদ এবং মরিচ চাষাবাদ করছেন। তারা তাদের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশপাশি বাগান করে আর্থিক ভাবেও লাভবান হচ্ছে। তারাগঞ্জ উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ধীবা রানী রায় বলেন, জনাব জাহেদুল ইসলাম সহ গোমস্তাপাড়া গ্রামের কৃষকগণ পুষ্টি বাগানের মাধ্যমে পতিত জমির সঠিক ব্যবহার করছেন। বিষমুক্ত নিরাপদ শাক সবজি উৎপাদন করে পরিবারের স্বাস্থ্য- সুরক্ষা ও পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিত করছেন।
এ গ্রামের কৃষকদের মতো তারাগঞ্জের সকল কৃষি পরিবার যদি নিজেদের জন্য পুষ্টি বাগান তৈরি করতে পারলে তাদের পারিবারিক স্বাস্থ্যের উন্নতি নিশ্চিত হবে। আগ্রহী কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানে উপজেলা কৃষি অফিসের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ পারিবারিক পুষ্টি বাগানের উপরে বেশি করে নির্ভরশীল হচ্ছে ও আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
আপনার মতামত লিখুন :