উত্তাল কাকরাইল , ২৫টি বাসে কাকরাইলে এসেছে জবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা | Daily AjKaler Kontho

উত্তাল কাকরাইল , ২৫টি বাসে কাকরাইলে এসেছে জবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মে ১৫, ২০২৫, ১:৩৩ অপরাহ্ন
উত্তাল কাকরাইল , ২৫টি বাসে কাকরাইলে এসেছে জবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

জবি প্রতিনিধি : চার দফা দাবিতে কেন্দ্রীয়ভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন আজ আরও বেগবান হয়েছে। চলমান আন্দোলন বেগবান করতে ক্যাম্পাস থেকে বাসে করে কাকরাইল মোড়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৫ টি বাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসেছেন। ক্যাম্পাস থেকে কিছুক্ষুন পর পর বাস ছাড়ছে কাকরাইলের উদ্দেশ্যে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে একে একে মোট ২৫টি বাস, যার মধ্যে ৩টি ছিল দোতলা, কাকরাইল মোড়ে এসে পৌঁছায়। এসব বাসে প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশ নেন। আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনের সড়ক ও কাকরাইল মসজিদ সংলগ্ন এলাকা।

এসময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান—“আবাসন চাই, বঞ্চনা নয়”, “বাজেট কাটছাঁট চলবে না”, “হামলার বিচার চাই” ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।প্রায় ২৪ ঘন্টা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাকরাইলে অবস্থান করছে। অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় অনেক শিক্ষার্থী ক্লান্ত হলেও আন্দোলন থেকে সরেনি কেউ। কেউ কেউ রাতভর রাস্তায় ঘুমিয়ে আজ সকালেও অবস্থান করছেন।

রসায়ন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা গতকাল থেকে একবিন্দু না নড়ে রাস্তায় আছি। কেউ বাসায় ফিরে যায়নি। চারটা ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকব।”

মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী এবং জবি বিএনসিসির সাবেক ইনচার্জ সোহেল রানা বলেন,“আমরা শুধু নিজেদের না, পরবর্তী প্রজন্মের জবিয়ানদের ভবিষ্যতের জন্য লড়ছি। দয়া করে আমাদের আন্দোলনকে রাজনীতি বলে চালিয়ে দেবেন না। এটা ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই।”

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা, জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাশ ও বাস্তবায়ন, ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: রইস উদ্দিন জানিয়েছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসন থেকে দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”

গতকাল বুধবার সকাল ১১ টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে লং মার্চে শুরু করে শিক্ষক শিক্ষার্থী। লং মার্চটি গুলিস্থান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে আসলে ১২.৪০ এর সময় পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের উপর। এসময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের উপর লাঠি চার্জ করে পুলিশ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সহ শতাধিক আহত হয়েছেন।

পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে বিফ্রিং করতে আসেন। মাহফুজ এর বিফ্রিংএ অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা।এসনয় উপদেষ্টা মাহফুজ কে উদ্দেশ্য করে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বক্তৃতার একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে বোতল ছুড়ে মারেন একজন। উপদেষ্টা বিফ্রিং বন্ধ করে রাগ করে চলে যান।

এদিকে উপদেষ্টা মাহফুজের বক্তব্যে অসন্তুষ্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় এবং কাকরাইল মসজিদের সামনে অবস্থান নিয়ে আছেন শিক্ষার্থীরা।