লালমনিরহাটে শতবর্ষী গোশালা বাজার গ্রাসের পায়তারা ফুঁসে উঠেছে ব্যবসায়ীরা | Daily AjKaler Kontho

লালমনিরহাটে শতবর্ষী গোশালা বাজার গ্রাসের পায়তারা ফুঁসে উঠেছে ব্যবসায়ীরা


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মার্চ ১৯, ২০২৫, ৪:৩৩ অপরাহ্ন
লালমনিরহাটে শতবর্ষী গোশালা বাজার গ্রাসের পায়তারা ফুঁসে উঠেছে ব্যবসায়ীরা

মোঃ জাহেদুল ইসলাম রতন লালমিনরহাট:  লালমনিরহাটে একশত বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী গোশালা বাজার অবৈধ ভাবে গ্রাসের পায়তারা চলছে। এতে নিয়মিত টোল ও পৌরকর দাতা ৪০০ থেকে ৫০০ জন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা ফুঁসে উঠেছে। দায়ের করা হয়েছে, মামলা ও অভিযোগ এবং গঠন করা হয়েছে, বাজার রক্ষা কমিটি।
জানা গেছে, লালমনিরহাট পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী একশত বছরের পুরাতন বাজার “গোশালা বাজার”।

১৯৫০ সালে জৈন ধর্মাবলম্বীরা স্বপরিবারে ভারত চলে গেলে ২৭৯ শতক অকৃষি জমির ওপর বাজার গড়ে উঠায় সরকার এস.এ.টি এ্যাক্ট মোতাবেক অধিগ্রহণ করে। এরপর কাঁচামাল আমদানি ও রফতানির জন্য বড় বড় আড়ৎ ঘর সহ প্রায় ৪০০/৫০০টি বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে উঠায় বিশাল বাজারে রুপ নেয় “গোশালা বাজার”।

কাক ডাকা ভোর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন রকমে কাঁচামাল পাইকারির পাশাপাশি খুচরা হিসেবে বিক্রিতে জমে উঠে এ বাজার। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পণ্য আমদানি ও রফতানি হয়। ফলে প্রতিবছর গোশালা বাজার ইজারার মাধ্যমে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় করেন। এভাবেই প্রায় একশত বছর ধরে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা পৌরকর পরিশোধ করেন।

লালমনিরহাট পৌরসভার তখন থেকেই বাজারের খাজনা আদায় করেছেন। ফলে হাজারও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাজার রক্ষা কমিটি জানান, গোশালা বাজার সম্পত্তি নিয়ে গোশালা সোসাইটির পূর্বের জৈন ধর্মাবলম্বীদের নামে গোশালা সোসাইটির রেজিঃ জাল করেন। ১৯৭৯ সালে কিছু হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোক গরু মহিষ পালনের জন্য গোশালা সোসাইটির নাম ধারন করে পৌরসভার বিরুদ্ধে অন্য-৩৫/৬৯ মোকদ্দমা দায়ের করেন। যাহা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মোকদ্দমা।

উক্ত মোকদ্দমায় সরকার পক্ষে কোন তদবির না করায় একতরফা রায় ডিক্রী প্রাপ্ত হন। পরর্বতীতে ২০০৭ সালের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে সরকার পক্ষের ডেপুটি কমিশনার লালমনিরহাট গং-অন্য ৮/৯৩ মোকদ্দমা দায়ের করায় পূর্বের রায় বাতিল করেন। একতরফা রায় ও ডিক্রী বে-আইনী বলে নালিশী “গ” তফসীল বর্ণিত জমিতে গোশালা বাজার আছে বলে জানান।

বিজ্ঞ আদালতের রায়ে বলেন, নালিশী “গ” তফসীল বর্ণিত সম্পত্তি গোশালা বাজার নামে পরিচিত এবং সেখানে কাঁচা বাজার, মাছ বাজার, গোস্ত বাজার, দোকানপাট ও আড়ৎ ঘর আছে। তাই নালিশী ‘গ’ তফসীল বর্ণিত সম্পত্তি হাট-বাজার প্রমাণিত এবং বাংলাদেশ সরকার পক্ষে লালমনিরহাট পৌরসভা কর্তৃক পরিচালিত ও এস.এ.টি এ্যাক্টের ২০ ধারার বিধান মোতাবেক উক্ত সম্পত্তি সরকারি। এই গোশালা বাজারে হাজার লোকের কর্মসংস্থানের জায়গা। বর্তমান উক্ত সম্পত্তি নিয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ সদর আদালতে অন্য ১২৬/২০২১ মোকদ্দমা চলমান আছে। কিন্তু কিছু স্বার্থ লোভী মহল অবৈধ উপায় বাজারের জমি আত্মসাতের লক্ষ্যে লালমনিরহাট পৌরসভাকে প্রভাবিত করে অবৈধ সোলেনামার মাধ্যমে গোশালা বাজার গ্রাস করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন।

লালমিনরহাট গোশালা বাজার দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি শেখ নেছার উদ্দিন বলেন, ১৯৫০ সালে পূর্ব বাংলা জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজা স্বত্ব আইন জারী হওয়ার পর উক্ত আইনের নিজ ধারার বিধান মতে নালিশী অকৃষি জমির উপর প্রতিষ্ঠিত বাজার আপনা আপনি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে পরিণত হয়। তাছাড়া ১৯৭৮ সালে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার মতে হাট বাজার পুকুর স্থানীয় সরকারের নিকট হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গোশালা বাজার সম্পর্কে তৎকালীন এসডিও মোস্তাফিজুর রহমান ১৯৮২ সালে গোশালা বাজার তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন যে, গোশালা সোসাইটি বিধি মোতাবেক পরিচালিত হচ্ছে না। সোসাইটি মতে কোন পূর্জা অর্চনা বা দেব-দেবীর অর্চনা হচ্ছে না এবং ১৯৬০ সালের সোসাইটি মতে পরিচালিত হচ্ছে না। যাহার প্রেক্ষিতে ১৯৮৪ সালে এক পরিপত্রে পৌরসভার চেয়ারম্যান উপজেলা রেভিনিউ অফিসার গোশালা বাজারের টোল আদায় পৌরসভার দায়িত্বে দেন এবং জেলা প্রশাসকও বলেন, গোশালা বাজারের পূর্ণ পরিচালনার দায়িত্ব পৌরসভার। জৈন্য ধর্মাবলম্বীরা উক্ত গোশালা সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তারা স্বপরিবারের ভারত গমনের সঙ্গে সঙ্গে উক্ত সোসাইটির কার্যকারিতা ও উদ্দেশ্য সর্ম্পূনরুপে পরিসমাপ্তি ঘটে।

এদিকে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি শেখ নেছার উদ্দিন আরো বলেন, আমাদের বাপ-দাদা আমলীয় গোশালা বাজারের জমি অবৈধ উপায়ে আত্মসাতের লক্ষ্যে লালমনিরহাট পৌরসভাকে প্রভাবিত করায় ও গোশালা বাজার রক্ষায় জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। খুব দ্রুত সমাধান না হলে ৪০০ থেকে ৫০০ জন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে যাব।