শেরপুরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ | Daily AjKaler Kontho

শেরপুরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৫, ৫:৫৫ অপরাহ্ন
শেরপুরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ

মো: রিয়াজ : শেরপুরে বনভোজনের বাসে থাকা এক মেয়েকে ইভটিজিং করায় যুবককে মারধরের জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, রাস্তা অবরোধ, আগুন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া ওই সংঘর্ষের জেরে আজ শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরেও সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কান্দাশেরীরচর ও কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে।

এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কান্দাশেরীরচর এলাকায় শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সূর্যমুখীর বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে যানজটে আটকে থাকা বনভোজনের বাসে বসে থাকা এক মেয়েকে ইভটিজিং করে পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের এক যুবক।

পরে কান্দাশেরীরচর গ্রামের কয়েকজন যুবক মিলে ওই যুবককে মারধর করেন। এরপর কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের লোকজন খবর পেয়ে দলবেঁধে কান্দাশেরীরচর গ্রামে হামলা চালালে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

এতে কান্দাশেরীরচরের হোসেন আলীর ছেলে ফারুক মিয়া (৩০), লাল মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া (২৫), ইয়াসিন আলীর ছেলে আব্দুল আলিম (২৬)সহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়। এসময় কুসুমহাটি বাজারের রাস্তায় আগুন দিয়ে অবরোধ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও পলাশ টেলিকম নামে একটি মোবাইলের দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এদিকে আজ শনিবার সকাল থেকে দু’পক্ষ কুসুমহাটি বাজারে শেরপুর-জামালপুর সড়কের দুইপাশে অবস্থান নেওয়া শুরু করলে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপুরের দিকে দুপক্ষের মধ্যে কয়েকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এতে দুপক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। এসময় আবারও শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে লোকজন সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

এ ব্যাপারে শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যতটুকু কঠোর হওয়া প্রয়োজন, ততটুকু কঠোর আমরা হব। কোনক্রমেই আমরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে দেব না।