ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংঙ্কিং(কিউএস) ২০২৪ অনুসারে তালিকায় নাম নেই নোবিপ্রবি | Daily AjKaler Kontho

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংঙ্কিং(কিউএস) ২০২৪ অনুসারে তালিকায় নাম নেই নোবিপ্রবি


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৮, ২০২৪, ৮:৩১ অপরাহ্ন
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংঙ্কিং(কিউএস) ২০২৪ অনুসারে তালিকায় নাম নেই নোবিপ্রবি

শাহাদাত হোসেন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ পেয়েছে। সেই তালিকায় পাওয়া যায়নি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নাম।

নভেম্বর(বুধবার)যুক্তরাজ্য ভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ভিত্তিক সংস্থা (কিউএস) তাদের ওয়েবসাইটে এশিয়া র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে।‘কিউএস’ ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং: এশিয়া ২০২৫’ শীর্ষক এ র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ পায়।

সেরা বিশ্ববিদ্যালয় তালিকা প্রতিবছর প্রকাশিত হয় বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক যাচাই-বাছাই ও ফলাফলের উপর ভিত্তি করে। এই র‍্যাংকিংগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, শিক্ষা মান, পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক সংযোগের মতো সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়।অন্যান্য সংস্থার থেকে নির্ভুল তথ্য প্রকাশ করায় এর গ্রহনযোগ্যতাও রয়েছে।

‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং: এশিয়া ২০২৫’ শীর্ষক এ র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ পায়, সেখানে বাংলাদেশের ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

এদিকে তালিকায় র‍্যাঙ্কিং এ ‘নোবিপ্রবি’ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ‘নোবিপ্রবি’ শিক্ষার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকে বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো মানের গবেষক রয়েছেন, আছে গবেষণাও। এছাড়া শিক্ষার পরিবেশও দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থিতিশীল। তারপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায় না।

‘নোবিপ্রবি’ শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নোবিপ্রবির মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। কিন্তু তাদের মেধাকে শাণিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তা যথাযথভাবে নিতে দেখা যায় না। কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম আমাদের নোবিপ্রবিতে ১৮টি বিভাগে অধ্যাপকই নেই। নামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি হলেও এর বাইরেও বিভাগ রয়েছে। নতুন বিভাগ গুলোতে রিসার্চ শব্দটাই অপরিচিত। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে যেভাবে কঠোরভাবে নীতিমালা অনুসরণ করা হয় সেভাবে আমাদের এখানে দেখা যায় না। তাই দেখা যায় প্রভাষক হয়ে যোগদানের দুই বছর পর অনেকে বাইরে ডিগ্রি নিতে চলে যায়, অনেকে পিএইচডি করতে গিয়ে ফিরে আসেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা গবেষণার সুযোগ ও গাইডলাইন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ৫০% শিক্ষার্থী ও গবেষণা করতে পারতো তাহলে সেরা দশে থাকতো। হয় ফান্ড নাই, নাহয় গাইডলাইনের অভাব ইত্যাদি নানা সমস্যা কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেল এর পরিচালক ও দেশসেরা গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘র‍্যাঙ্কিং এর ক্ষেত্রে আসলে অনেকগুলো প্যারামিটার কাজ করে। তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট। আমাদের ওয়েবসাইট ভালোভাবে ডেভেলপ না হওয়ায় গবেষণার তথ্যগুলো আমরা হালনাগাদ করতে পারি না। গত উপাচার্যের আমলে এটি হয়ে উঠেনি ফলে আমাদের অনেক কাজ হওয়া স্বত্তেও র‍্যাঙ্কিং এ নাম আসছে না। এছাড়া ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত, বিদেশী শিক্ষার্থী সংখ্যা, গবেষণার মান সবকিছু যখন আমরা ওয়েবসাইটে নিয়ে আসতে পারবো তখন আশা করা যায় আমাদের র‍্যাঙ্কিং মান উন্নতি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন উপাচার্য স্যার আসার পর আমরা ওয়েবসাইটটি ফাংশনাল করতে বলেছি। বর্তমানে ৫ জন শিক্ষার্থী পিএইচডি করছেন। সামনে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। এছাড়া আমরা প্রতিবছর রিসার্চ এওয়ার্ড ও পাবলিকেশন এওয়ার্ড পুুনরায় চালু করেছি। শিক্ষকদের মধ্যেও গবেষণা বৃদ্ধিতে অনুষদ ভিত্তিক এওয়ার্ড দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।’

নবনিযুক্ত নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজুয়ানুল হক গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। বর্তমান ওয়েবসাইটে বলতে গেলে অনেক কিছু আপডেটেড নেই। আমরা ইতিমধ্যে এটা নিয়ে রিসার্চ সেল, আইকিউসি সেলে ও আইটি সেলের সাথে মিটিং এর পরিকল্পনা নিয়েছি। সেখান থেকে কমিটি করে দেওয়া হবে। আশা করি খুব শীঘ্রই আমরা ভালো একটি ফলাফল পাবো এবং আগামীবার থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম র‍্যাঙ্কিং এ থাকবে।