লালমনিরহাটে ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে ক্ষতির মুখে কৃষকেরা | Daily AjKaler Kontho

লালমনিরহাটে ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে ক্ষতির মুখে কৃষকেরা


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৬, ২০২৪, ৮:২৩ অপরাহ্ন
লালমনিরহাটে ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে ক্ষতির মুখে কৃষকেরা

জাহেদুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট : ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে লালমনিরহাট আমনের পাকা ধানগাছ হেলে পড়েছে। শীতকালীন আগাম শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। ঘরে তোলার আগেই ধানগাছ হেলে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। আজ শনিবার সকালে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘুরে দেখাগেছে ফসলি জমিতে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে অনেক খেতে আধা পাকা ও পাকা ধানগাছ মাটিতে হেলে পড়েছে। খেতে কেটে রাখা ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে বৃষ্টির পানি সরে না যাওয়ায় কারনে।

এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শীতকালীন আগাম সবজির খেত। সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ এলাকার কৃষক রাশেদুল ইসলাম বলেন, গত দুই দিন বৃষ্টি হওয়ায় এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছি। আকাশ ভালো থাকায় জমিতে পাকা ধান কেটে রেখেছিলাম শুকানোর জন্য। ভাটিবাড়ি এলাকায় শহিদুল ইসলাম নামের আরেক কৃষক জানান, গত সপ্তাহ থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে ঘূর্ণিঝড় দানা।

সদরের নয়ারহাট এলাকার কৃষক রমনি রায় বলেন, বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে আমাদের চরম ক্ষতি হয়ে গেছে। এক একর জমিতে আগে যেখানে প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ মণ ধান পাওয়া যেত, এখন সেখানে ২৮ থেকে ৩০ মণ ধান আসবে কিনা সম্ভব ।
লালমনিরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায়। এক লাখ,আট হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাঁচ উপজেলার ১৬ জাতের ধানের চাষাবাদ হয়েছে। ব্রি ধান- ৩৩,৩৯,৭১,৭২,৯০ ও ৯৫ ব্রি হাইব্রিট ধান-৪ ও ৬ বিনা ধান-৭,১১,১৬,১৭ ও ২২ চায়না, পারিজ, ধানীগােন্ড, টিয়া, ময়ানা,ইস্পাহানি-২, হিরা-৫, এসিআই-২, অ্যারাইজ এজেড-৭০০৬ এবং অ্যারাইজ এইচএন ৯০১৯ সহ বিভিন্ন আগাম জাতের ধানের চাষ করেছেন কৃষকরা। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন বলেন, চলতি মৌসুমে এ জেলার পাঁচটি উপজেলায় যে সব ধানের চাষ হয়েছে ।

এসব জমির ধান কেটে আবারাে ধান রােপণ করা যায়। তাই ইতিমধ্যে এই জাতের ধানের রোপণ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়ােছে।