
মিজানুর রহমান, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : দেশের অন্যতম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে পর্যটন নগরী। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করার জন্য দেশি বিদেশি ভ্রমণ পিপাস পর্যটক ছুটে আসছেন এখানে। তবে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে সৈকতটি। সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে নানা পরিকল্পনা ও বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সমুদ্রের ঢেউয়ের তান্ডবে সৈকতের বালুক্ষয় হচ্ছে। ইতোমধ্যে সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়েগেছে বেশ কিছু স্থাপনা। ছোট হয়েগেছে সৈকত লাগোয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বালুক্ষয় রোধে স্থায়ী সমাধান না খুঁজে প্রতিবছর জরুরী মেরামতের প্রকল্প নিচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর এ প্রকল্পের বালুভর্তি জিওটিউব ও জিওব্যাগ সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। সৈকতের জিরো পয়েন্টের দ্#ু৩৯;পাশে দুই কিলোমিটার এলাকা এখন জিওটিউব ও জিওব্যাগের দখলে। অপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিছানো বালুভর্তি এসব জিওব্যাগে শ্যাওলা ধরছে। প্রতিনিয়ত পা পিছলে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন আগত পর্যটকরা। এমনকি সমুদ্রে গোসল করতে নেমে আহত হচ্ছেন পর্যটকরা। ফলে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের জন্য বিরক্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে ব্যাপক সম্ভাবনাময় এই সৈকতে। তাই যেখানে সেখানে পড়ে থাকা জিওটিউব ও জিওব্যাগ দ্রুত অপসারণের দাবি পর্যটকদের। আর সুপরিকল্পিত কর্মপন্থা গ্রহণ করে সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, সৈকতের বিরাজমান অব্যবস্থাপনা দূর করে সুপরিকল্পিতভাবে সাজাতে পারলে কুয়াকাটার হারানো সৌন্দর্য ফিরে আসবে। অন্যথায় পর্যটকরা এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।
সৈকতের জিওব্যাগ অপসারণের ব্যাপারে কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, বালুর বস্তাগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। আমি ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিদর্শন করেছি। জিও ব্যাগগুলো অপসারণ করলে সৈকতের কোন ক্ষতি হবে কিনা সে বিষয় যাচাই বাছাই চলছে। তাদের মতামত পেলেই কুয়াকাটা
পৌরসভার সহায়তায় বস্তাগুলো অপসারণ করে সৈকতের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :