
:: নরসিংদী প্রতিনিধি ::
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলি ইউনিয়ন কাচারী কান্দি গ্রামের এম/এস আইমান ট্রেডার্স এগ্রো ফার্মের মালিক মোঃ মুঈন উদ্দীনকে চাঁদা না পেয়ে বেঁধে মারধর ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে তার গর্ভের সন্তান হত্যা করেছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফেরদৌস কামাল জুয়েলের চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য আব্দুল করিম, কামাল মিয়া, রবি উল্লাহ, শাহ আলম ও আবুল কালাম। এ ঘটনায় ওই দিন সন্ধ্যায় রায়পুরা থানায় ফোন করেন মুঈন উদ্দীনের স্ত্রী। পরে রায়পুরা থানার সাব-ইন্সপেক্টর রাফিউজ্জামান রাফি পুলিশের টিম নিয়ে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভোক্তভোগি পরিবারের অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি করেন।
শনিবার (১0 জুন) এ ঘটনা ঘটে। রায়পুরা থানার সাব-ইন্সপেক্টর রাফিউজ্জামান রাফি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ থেকে জানা গেছে, রায়পুরা সদর শাহীন জেনারেল হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে শনিবার (১০ জুন) তাদের রাস্তা আটক করে আব্দুল করিম, কামাল মিয়া, রবি উল্লাহ, শাহ আলম ও আবুল কালাম তার স্বামীর কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। তার স্বামী এতো টাকা দিতে অপারগতা স্বীকার করলে আবুল কালাম একটি পিস্তল তার মাথায় দরে এবং অন্য সন্ত্রাসীরা কাঠের লাঠি দিয়ে তার স্বামীকে নির্যাতন করতে শুরু করে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে আবুল কালাম তার স্বামীকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করলে মুঈন উদ্দীন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।অন্য একজন সন্ত্রাসী তার স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে চলে যায়। এসময় তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
সন্ত্রাসীরা থাকা অবস্থায় অনেক লোক দেখলেও তারা কেউই সাহস করে তাদের রক্ষা করতে আসেনি পরে তারা চলে গেলে তার স্ত্রীর চিৎকার এবং কান্না শুনে কিছু পথচারী তাদেরকে রায়পুরা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে দেয়। এলাকার লোকজন এর সাথে কথা বলে জানা যায়, যাবার সময় সন্ত্রাসীরা তাদের কে অনেক ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনা কাউকে না বলার হুমকি দিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান ফেরদৌস কামাল জুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রায়পুরা থানার সাব-ইন্সপেক্টর রফিউজ্জামান রফি বলেন, এ বিষয়ে আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য নিয়ে অভিযোগ নিয়েছি। পুলিশ আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
আপনার মতামত লিখুন :