বরিশালে ট্রাফিক পুলিশকে ঘুষের টাকা দিতে গিয়ে বিপাকে অটোচালক, ভিডিও ভাইরাল | Daily AjKaler Kontho

বরিশালে ট্রাফিক পুলিশকে ঘুষের টাকা দিতে গিয়ে বিপাকে অটোচালক, ভিডিও ভাইরাল


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মার্চ ২৪, ২০২৩, ৪:০৯ অপরাহ্ন
বরিশালে ট্রাফিক পুলিশকে ঘুষের টাকা দিতে গিয়ে বিপাকে অটোচালক, ভিডিও ভাইরাল

রিপোর্টার,খান মো:মেহেদীঃ বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাস স্ট্যান্ডে বরিশাল জেলা ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই রাসেদুল হাসানকে ঘুষের টাকা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ে বাকেরগঞ্জ বটতলা এলাকার অটোরিকশাচালক হারুন।

২৪ মার্চ সকাল ১১ টায় বাস স্ট্যান্ড মহাসড়কের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পার্কিং করে যাত্রী তুলছিলেন অটোচালক হারুন। ট্রাফিক আইন না মেনে সড়কের মধ্যে অবৈধভাবে অটো গাড়ি পার্কিং করায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব থাকা কর্মরত অবস্থায় এটিএসআই রাসেদুল আটো চালক হারুনকে রাস্তার পাশে যাত্রি ছাউনিতে ডেকে নিয়ে জানতে চায় রাস্তার মধ্যে এইভাবে ব্যাটারি চালিত অটো পার্কিং করার অনুমতি কে দিয়েছে।

অটোচালক হারুন তখন ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই রাসেদুলকে ৯ শত টাকা পকেট থেকে বের করে তার হাতে দিতে চায়। মানবিক পুলিশ রাশেদুল অটোচালক কে বলেন কত টাকা এখানে। আর আমাকে কেনইবা টাকা দিতে চান? অটো চালক হারুন প্রশ্ন উত্তরে বলেন এখানে ৯ শত টাকা রয়েছে। তখন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য রাশেদুল হারুনকে বলেন ৫ শত টাকা আপনার পকেটে রাখেন এবং বাকি ৪ শত টাকা নিয়ে আমার সাথে ফলের দোকানে চলেন।

ট্রাফিক পুলিশ সদস্য রাশেদুল অটো চালক কে বলেন, আপনি জানেন না রমজানের আজকের প্রথম দিন। আমার মুখে দাড়ি মাথায় টুপি তারপরও কিভাবে আপনার সাহস হলো আমাকে ঘুষের টাকা দিতে। ঘুষ দেয়া নেয়া দুটোই সমান অপরাধ। আর কখনো কোনদিন কোন পুলিশ সদস্যকে ঘুষের টাকা দিবেন না। এরপর হারুনকে ফলের দোকানে নিয়ে ৪ শত টাকার ফল কিনে দেয় ইফতার করার জন্য। ঘটনার বিষয়টি পথচারীরা মোবাইফোনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়।

জানা যায়, পটুয়াখালী সদর, খলিসা খালি গ্রামের মো: গোলাম কবিরের পুত্র বরিশাল জেলা ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই রাসেদুল। রাশেদুল পটুখালী সরকারি কলেজে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় পুলিশের চাকরি পায়।

মানবিক পুলিশ সদস্য রাশেদুলের কাছে ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকার আমাদের বেতন দেয়। বেঁচে থাকার জন্য অনেক সম্পদের প্রয়োজন হয় না। ২০ বছর যাবত পুলিশের চাকরি করতেছি। পুলিশের চাকরি মানুষের সেবা করার জন্য। যারা ঘুষ দেয় এবং নেয় উভয় সমান অপরাধী। তাই সকলকে আহ্বান জানান ঘুষ দেয়া-নেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য।