আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বাউফলে স্থাপনা নির্মান | Daily AjKaler Kontho

আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বাউফলে স্থাপনা নির্মান


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২২, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বাউফলে স্থাপনা নির্মান

সঞ্জয় দেবনাথ সিনিয়র রিপোর্টার বাউফল : পটুয়াখালীর বাউফলে হাই কোর্টের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অন্যের জমি দখল করে ভবন নির্মান চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসান গাজী নামের ওই ব্যক্তি হাইকোর্টের সহকারী প্রোগ্রামার পদে কর্মরত আছেন। তিনি বাউফল উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোতালেব গাজীর ছেলে।

জানা গেছে জমিজমা বিষয় নিয়ে পাশবর্তী মৃত আবুল হোসেন মৃধা, সুলতান মৃধা পরিবারের সাথে হাইকোর্টের ওই কর্মকর্তা হাসান গাজীর পরিবারের সাথে দীর্ঘ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। যার জের ধরে ২০২০ সাল থেকে উভয় পক্ষের স্থানীয় সহকারী জজ ও পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেন এবং অধিকাংশ মামলা চলমান রয়েছে।

এই মামলা চলাকালীন সময়ের মধ্যে বিরোধপূর্ন ওই জমিতে পাকা বসতঘর স্থাপনের কাজ শুরু করে হাসান গাজীর বাবা মোতালেব গাজী। নেপথ্যে থেকে এই কাজের বুদ্ধি পরামর্শ প্রদান করতে থাকেন হাসান গাজী। বিষয়টি নজরে আসলে মৃধা পরিবার পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতের দারস্থ হন। পরে আদালতের বিচারক চলতি বছরের জুন মাসে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ প্রদান করে বিরোধপূর্ন জমিতে স্থিতিবস্থা জারির নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশের পরও বসত ঘর স্থাপনের উদ্দেশ্যে নির্মান সামগ্রী জমায়েত করাসহ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন হাসান গাজী ও তার বাবা মোতালেব গাজী। শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিটকে পরেন মোতালেব গাজী।

জানা গেছে, চাকুরীর সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করেন হাসান গাজী। হাইকোর্টে চাকুরী করেও আদালতের আদেশ অমান্য করার চরম দৃষ্টতা দেখিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয় বাদীপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বাদী পক্ষের মধ্যে একাধিক সরকারী চাকুরীজীবীকে তিনি বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করছেন। বাদীদের পক্ষে মৃত সুলতান মৃধার দুই ছেলে সরকারী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ও বশির উদ্দিন বলেন জমির সুষ্ঠ বন্টনের জন্য আমরা আদালতে মামলা করেছি। আদালত নিশ্চিই সুষ্ঠু ভাবে এর ফয়সালা করবেন। কিন্তু বিবাদী পক্ষ মোতালেব গাজী ও তার ছেলে হাসান গাজী তা কোন ভাবেই মানছেন না। তারা উচ্চ আদালতের স্থিতি অবস্থা জারির আদেশ উপেক্ষা করে নির্মান কাজ শুরু করেন। তারা আরো বলেন বিষয়টি পারিবারিক। কিন্তু যেহেতু আমরা সরকারী চাকুরী করি তাই আমাদের সহজে ঘায়েল করার জন্য আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও এমন কোন দপ্তর/সংস্থা নেই যেখানে সে অভিযোগ দায়ের করেছে না । এতে আমরা সব দিক থেকে চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছি।

জানতে চাইলে হাইকোর্টের সহকারী প্রোগ্রামার হাসান গাজী বলেন, ওরা আমাদের মধ্যে কোন জমি পাবে না। আদালতের মাধ্যমে সমাধান করছেন না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার বাদী ১৫ জন আর বিবাদী ১৬ জন। এসব মামলার রায় এক যুগেও হবে না। তাই বলে কি আমার ঘরের কাজ বন্ধ করে রাখব।

আজকালের কন্ঠ /রাকিব