বাউফলে অসহায় পরিবারের পাশে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, স্থায়ী কর্মসংস্থানের আশ্বাস | Daily AjKaler Kontho

বাউফলে অসহায় পরিবারের পাশে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, স্থায়ী কর্মসংস্থানের আশ্বাস


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ন
বাউফলে অসহায় পরিবারের পাশে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, স্থায়ী কর্মসংস্থানের আশ্বাস

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বামনিকাঠি গ্রামের অসহায় ইউসুফ হাওলাদারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। পরিবারের একাধিক সদস্যের অসুস্থতা, চরম আর্থিক সংকট ও মানবেতর জীবনযাপনের খবর পেয়ে তিনি পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় তাঁর পক্ষ থেকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পরিবারটির ভবিষ্যৎ জীবিকা নির্বাহের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

পরিবারটির দুরবস্থার খবর জানার পর তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা, আর্থিক সংকট এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হয়। শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা নয়, পরিবারটিকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলার সম্ভাব্য উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭০ বছর বয়সী ইউসুফ হাওলাদার ও তাঁর স্ত্রী ফুলচান (৬০) দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন। তাঁদের বড় ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৭) ও বড় মেয়ে রাসেদা (৩২) মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। অন্যদিকে, পরিবারের ছোট ছেলে সবুজ (১৮) বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত। পরিবারের একাধিক সদস্যের অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবারের সাত সন্তানের মধ্যে মেজো ছেলে জব্বার (২৬) ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সীমিত আয়ে তিনি নিজের পরিবারের পাশাপাশি অসুস্থ স্বজনদেরও সহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু একাধিক সদস্যের চিকিৎসা, খাবার, পোশাকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং পরিবারের সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারটির জন্য স্থায়ী আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হলে তাদের জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা ও আর্থিক সংকট সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের দুর্দশা লাঘবে সম্ভাব্য সহযোগিতার পথ খুঁজে বের করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি মানবিক কর্তব্যও। বিশেষ করে একই পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হলে পরিবারটির ওপর যে মানসিক ও আর্থিক চাপ তৈরি হয়, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ ধরনের পরিবারকে শুধু সাময়িক সহায়তা প্রদান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

পরিবারটির ভবিষ্যৎ জীবিকা নির্বাহের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ সৃষ্টি করা যায় কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের চিকিৎসা ও সার্বিক কল্যাণে ভবিষ্যতেও পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, অসহায় মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট মহলের এগিয়ে আসা জরুরি। মানবিক সহমর্মিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এমন পরিবারগুলোর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

বামনিকাঠির অসহায় ইউসুফ হাওলাদারের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পরিবারটির সদস্যরা যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জীবনযাপনের ন্যূনতম সুযোগ পান এবং ভবিষ্যতে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে পান, সে প্রত্যাশাই করছেন স্থানীয়রা।

মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি করা—এমন মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করছেন বাউফলের সাধারণ মানুষ।