
পটুয়াখালীর বাউফলের বগা এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ব্যাপক স্লোগান এবং হট্টগোলের মুখে নির্ধারিত কর্মসূচি পরিবর্তন করেছেন সড়ক পরিবহন, সেতু ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আউয়াল এমপি। উদ্ভূত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তিনি বগার নির্ধারিত কর্মসূচি পরিহার করে সরাসরি দুমকি উপজেলার চরগরবদী দাখিল মাদ্রাসা মাঠের জনসভাস্থলে চলে যান।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে দুমকি উপজেলার চরগরবদী দাখিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি খুদে শিক্ষার্থী আবিরার চিঠির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “ছোট্ট আবিরাও এখন সেতু নিয়ে ভাবছে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলছে।”
সরেজমিনে জানা গেছে, সড়কপথে বাউফলে আসার সময় মন্ত্রী প্রথমে দুমকি উপজেলার চরগরবদী এলাকায় নামেন। পরে ফেরিযোগে বাউফলের বগা এলাকায় পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা “তারেক রহমান” ও “খালেদা জিয়া”র নামে স্লোগান দিতে থাকেন। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও “নারায়ে তাকবির” ও “মাসুদ ভাই” স্লোগান শুরু করেন। দুই পক্ষের মুখোমুখি স্লোগান ও হট্টগোলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই হট্টগোলের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বগার নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে না গিয়ে সরাসরি দুমকি উপজেলার চরগরবদী জনসভাস্থলে চলে যান।
সেখানে জনসভায় মন্ত্রী বলেন, “স্থলপথ ও নৌপথ—দুইটিই মানুষের প্রয়োজন। নৌপথ সচল থাকবে, পাশাপাশি সেতুর মাধ্যমে স্থল যোগাযোগও গড়ে তোলা হবে। এতে একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে এ ধরনের যোগাযোগ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ।”
খুদে শিক্ষার্থীর আবেগের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “খুদে আবিরার নিষ্পাপ চিঠি প্রধানমন্ত্রীকে মুগ্ধ করেছে। সেই চিঠির কারণেই আমরা সরেজমিনে এসে বিষয়টি দেখছি। দ্রুত সেতু বাস্তবায়নের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।”
এর আগে মন্ত্রী লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর (বগা সেতু) সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন।
উক্ত জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :