জাককানইবির নতুন উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা | Daily AjKaler Kontho

জাককানইবির নতুন উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা


জাককানইবি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ন
জাককানইবির নতুন উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

সম্প্রতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম উপচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন । নতুন উপাচার্যের নিয়োগকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে নতুন আশা ও প্রত্যাশা। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শুধু প্রশাসনিক প্রধানই নন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির দিকনির্দেশক, অভিভাবক এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা সমাধান হবে এমনটাই বিশ্বাস শিক্ষার্থীদের।

নতুন উপাচার্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও তার কাছে প্রত্যাশা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন দৈনিক আজকালের কণ্ঠ পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি শিহাবুল ইসলাম শাহেদ।

পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়ামুল ইসলাম বলেন, নতুন উপাচার্য স্যারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আধুনিক, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবেন। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও একাডেমিক সমস্যার দ্রুত সমাধান, নতুন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনাই আমাদের প্রধান প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত বাস সার্ভিস চালু, আবাসন সংকট নিরসন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার এবং একাডেমিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়েও আমরা আশাবাদী। আমরা বিশ্বাস করি, স্যারের দক্ষ নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে উঠবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণায় আরও এগিয়ে যাবে।

অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাইমুল হাসান ইউসা বলেন , আমরা নতুন উপাচার্য মহোদয়ের কাছে প্রত্যাশা করি একটি এমন ক্যাম্পাস, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারবে, যেখানে সেশনজট কমবে, পরীক্ষার ফলাফল সময়মতো প্রকাশ হবে, গবেষণার সুযোগ বাড়বে, এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক হবে আরও আন্তরিক ও সহযোগিতামূলক। আমরা চাই, প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার মেধা ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন পাক। আমাদের আরও প্রত্যাশা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে আসুক স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও গতিশীলতা। আবাসন সংকট, পরিবহন সমস্যা, লাইব্রেরি সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা, ক্যান্টিন ও ডিজিটাল সেবার উন্নয়ন এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি তার ভবন নয়, তার শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন আর সম্ভাবনা। আমরা চাই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনার কেন্দ্র না হয়ে উঠুক উঠুক সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে। নজরুলের আদর্শে অনুপ্রাণিত এই বিদ্যাপীঠ থেকে গড়ে উঠুক যোগ্য, সৎ ও আলোকিত প্রজন্ম।

পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বর্ষা সুলতানা লাবন্য তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে জানান, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় দুই দশক পার করলেও এখনও নানা সংকট থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। প্রশাসনিক স্থবিরতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে শিক্ষাজীবন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন উপাচার্যের কাছে আমার কিছু মৌলিক প্রত্যাশা রয়েছে। সেশনজটমুক্ত একটি নিয়মিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার চাই, যাতে পরীক্ষা ও ফলাফল সময়মতো হয়। গবেষণাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে ল্যাব ও লাইব্রেরি আধুনিক ও কার্যকর হবে। দীর্ঘদিনের আবাসন ও পরিবহন সমস্যার সমাধান প্রয়োজন, পাশাপাশি নিরাপদ ক্যাম্পাস ও উন্নত ডাইনিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একটি উন্মুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন চাই, যেখানে যোগ্যতাই হবে মূল মানদণ্ড। আমরা বিশেষ কোনো সুবিধা চাই না, শুধু শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকারগুলো নিশ্চিত হোক। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় যেন একটি আধুনিক ও সম্মানজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এটাই প্রত্যাশা।

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ আউয়াল চৌধুরী বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষার স্থান নয়, এটি একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন গড়ার জায়গা। আর সেই স্বপ্নকে সঠিক পথে পরিচালিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তাই আমরা নতুন উপাচার্যের কাছে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নয়নের প্রত্যাশা করি। প্রথমত, আমরা একটি সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ চাই। ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম যেন সেশনজট ছাড়া নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হয় এটাই শিক্ষার্থীদের প্রধান প্রত্যাশা। দ্বিতীয়ত, আমরা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি আশা করি। লাইব্রেরি, ল্যাব এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা উন্নত হলে শিক্ষার্থীরা আরও দক্ষ হয়ে উঠবে। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনের আন্তরিকতা প্রয়োজন। আবাসন সমস্যা, পরিবহন সমস্যা এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ আমরা আশা করি।

তিনি আরো বলেন ,সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল বইয়ের জ্ঞানই নয়, নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব গঠনেরও জায়গা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা এমন একজন উপাচার্য চাই যিনি শিক্ষার্থীদের কথা শুনবেন, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেবেন এবং একটি বৈষম্যহীন, সুন্দর ও প্রগতিশীল ক্যাম্পাস গড়ে তুলবেন। আমরা বিশ্বাস করি, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় আরও এগিয়ে যাবে এবং দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। সবশেষে, নতুন উপাচার্যের সফলতা কামনা করছি এবং আশা করছি তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবেন।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২০২৪ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ ইকবল বলেন ,আজকের শিক্ষার্থীরা শুধু একটি ডিগ্রি চায় না, তারা চায় এমন শিক্ষা যা বাস্তব জীবনে দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব তৈরি করবে। তাই আমরা আশা করি নতুন উপাচার্য আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দেবেন, যাতে এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।আমরা আরও চাই, ক্যাম্পাসে এমন একটি পরিবেশ গড়ে উঠুক যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারবে, সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ পাবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য বা হয়রানির শিকার হবে না। প্রশাসনের স্বচ্ছতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের শিখিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, মানবতার পক্ষে কথা বলতে এবং সাম্যের সমাজ গড়তে। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর আদর্শকে ধারণ করে নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি