
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায়া নির্বাহী অফিসারের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় শিকলবন্দী এক কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের মাছুয়াপাড়া গ্রামে পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বাহাগিলী গ্রামের বাসিন্দা মজনু মিয়ার ছেলে মাহাবুব আলম মুন্নার সঙ্গে তারাগঞ্জ উপজেলার এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় তিন মাস আগে ওই কিশোরী স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়ে মুন্নার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং স্বামীর বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে সংসার করছিলেন।
পরবর্তীতে পরিবারের আশ্বাসে তিনি বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে তাকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ১২ থেকে ১৫ দিন ধরে তার বাবা-মা তাকে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান।
এ ঘটনায় কিশোরীর শ্বশুর মজনু মিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ আসমা উল হুসনাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কিশোরীকে শিকলবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে শিকলমুক্ত করা হয়।
উদ্ধারের পর কিশোরী জানান, তিনি স্বামীর সঙ্গে যেতে আগ্রহী। তবে তিনি নাবালিকা হওয়ায় এবং তার বিয়ের বৈধ নিবন্ধন না থাকায় আইনগত জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে তার বয়স ১৭ বছর ৯ মাস; ফলে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী তার বিবাহ আইনসম্মত নয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হক জানান, কিশোরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাকে রংপুরের সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র (বালিকা)-এ প্রেরণ করা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সেবা ও তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ আসমা উল হুসনা বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় অবৈধভাবে শিকল দিয়ে আটকে রাখা কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মেয়েটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মোনাববর হোসেন জানান, অভিযোগ প্রাপ্তির পরপরই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে ভিকটিমকে উদ্ধারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা দপ্তর এবং পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে কিশোরীকে শিকলবন্দী অবস্থা থেকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে শিকলমুক্ত করা হয়।তিনি আরও জানান, ভিকটিমের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় তার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের অমানবিক ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এ দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
আজকালের কন্ঠ/আর এস
আপনার মতামত লিখুন :