দুর্নীতির অভিযোগ :অবৈধ সম্পদের পাহাড়ে উঠে আছে রাজউকের পলাশ শিকদার | Daily AjKaler Kontho

দুর্নীতির অভিযোগ :অবৈধ সম্পদের পাহাড়ে উঠে আছে রাজউকের পলাশ শিকদার


আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ন
দুর্নীতির অভিযোগ :অবৈধ সম্পদের পাহাড়ে উঠে আছে রাজউকের পলাশ শিকদার

রাজউকের উত্তরা জোনের অথরাইজড অফিসার পদে থাকা পলাশের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বর্তমানে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

৮ বছরের চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা বাবদ তার বৈধ আয় মাত্র ৩৪ লাখ টাকা। অথচ বাস্তবে তিনি চড়েন কোটি টাকার গাড়িতে, গ্রামে গড়েছেন আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। সব মিলিয়ে অন্তত ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক তিনি। অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার নাম পলাশ শিকদার।

দুদক ও রাজউকের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০১৫ সালে সহকারী অথরাইজড অফিসার হিসেবে রাজউকে যোগ দেন পলাশ শিকদার। যোগদানের পর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সরকারি বেতন ও ভাতা বাবদ তিনি মোট আয় করেছেন ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৪১ টাকা। অথচ তার মালিকানাধীন ও বেনামি সম্পদের পরিমাণ এই আয়ের বহুগুণ বেশি।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, পলাশ শিকদার ঢাকায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি হ্যারিয়ার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৭-৭৯০২) ব্যবহার করেন। বিআরটিএ-এর তথ্যে দেখা যায়, নিজেকে আড়াল করতে গাড়িটি আফসানা মরিয়ম নামের এক নারীর নামে নিবন্ধন করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রামের বাড়িতে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন দৃষ্টিনন্দন ডুপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়া নেছারাবাদ উপজেলার ব্যাসকাঠি মৌজায় বাবার নামে ৩৫ লাখ টাকায় ১ একর ২৫ শতাংশ জমি কিনেছেন। মেজো বোন সেলিনা আক্তার রেবুর জন্য ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করে দিয়েছেন দোতলা বাড়ি। এমনকি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন-ব্লকে শ্যালকের (স্ত্রীর ছোট ভাই) নামে প্লট নিয়ে সেখানে ভবন নির্মাণ করছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও জানা যায়, বাবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জেতানোর জন্য তিনি প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন। এছাড়া শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের নামেও বিপুল সম্পদ গড়েছেন তিনি।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) দপ্তরে এবং পরবর্তীতে উত্তরা জোনের বিসি কমিটির (ভবন নির্মাণ অনুমোদন কমিটি) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বেপরোয়া দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। নকশা অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রদান এবং দালালি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

ইতোমধ্যে পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে আসা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। সংস্থার উপপরিচালক মানসী বিশ্বাসকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ২১ জুন পলাশ শিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। সম্পদের খোঁজে ব্যাংক, রিহ্যাব, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত চলাকালীন তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ১০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদনের পৃথক আরেকটি অভিযোগও তদন্ত করছে দুদক।

এসব অভিযোগের বিষয়ে পলাশ শিকদারের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আজকালের কন্ঠ/ আর এস