শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু | Daily AjKaler Kontho

শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু


মো: রিয়াজ , শেরপুর জেলা প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৯, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ন
শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম মাওলানা মো. রেজাউল করিম তিনি শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর–৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বুধবার সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় সভামঞ্চের সামনে থাকা কয়েক শ’ চেয়ার ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে উভয় দলের অন্তত ৩০ জন নেতা–কর্মী আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মো. রেজাউল করিম। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাঁকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে বুধবার রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জানান, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাওলানা মো. রেজাউল করিমকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত মাওলানা মো. রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে এবং শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দলীয় সূত্র জানায়, মাওলানা মো. রেজাউল করিমের প্রথম জানাজা আজ বিকেল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা রাত ৮টা ৩০ মিনিটে গোপালখিলা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এ বিষয়ে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, জামায়াত নেতার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আজকালের কন্ঠ/ আর এস/আর