গৌরনদীতে ১৩১ বিদ্যালয়ের ৭০টিতে প্রধান শিক্ষক নেই, পদোন্নতির আশায় শিক্ষকরা | Daily AjKaler Kontho

গৌরনদীতে ১৩১ বিদ্যালয়ের ৭০টিতে প্রধান শিক্ষক নেই, পদোন্নতির আশায় শিক্ষকরা


এ,এস,মামুন গৌরনদী প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ন
গৌরনদীতে ১৩১ বিদ্যালয়ের ৭০টিতে প্রধান শিক্ষক নেই, পদোন্নতির আশায় শিক্ষকরা

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকা এবং অবসরজনিত কারণে এসব পদ শূন্য হয়েছে। এতে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা। তবে শূন্য পদ পূরণে পদোন্নতি ও নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাঁদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ, সভায় অংশগ্রহণ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এসব কাজে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় নির্ধারিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অন্য শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত পাঠদানের চাপ তৈরি হচ্ছে।

কুড়ির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল ইসলাম, ধানডোব ১৩০ নম্বর কাজী মোখলেছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এইচ এম জাকির হোসেন এবং নাঠৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. শাহজালাল জমাদার জানান, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে তাঁদের একসঙ্গে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন আরেকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকলিমা তালুকদার।

এইচ এম জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও পাঠদান নিশ্চিত করতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও অতিরিক্ত কোনো সম্মানী পাওয়া যাচ্ছে না।

পূর্ব বাউরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম টিটু বলেন, তিনি তিন বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় তাঁকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। দ্রুত পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি পদোন্নতির কারণে শূন্য হওয়া সহকারী শিক্ষকের পদগুলোতে নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। এতে শিক্ষকসংকট কমার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত তদারকি ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও পাঠদানের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে এ পরিস্থিতির মধ্যেও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।

গৌরনদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম নুরুল আলম মৃধা বলেন, উপজেলার ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পদোন্নতির মাধ্যমে ৬০ শতাংশ পদ পূরণের প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে বলে তাঁরা আশাবাদী। বাকি ৪০ শতাংশ পদ পূরণের বিষয়টি সরকারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিয়োগ বা পদোন্নতির আদেশ পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলো পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের ভাতা প্রসঙ্গে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, মহাপরিচালকের (ডিজি) আদেশ অনুযায়ী চলতি দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন শিক্ষক দায়িত্ব ভাতা পান। তবে শুধু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের অনেকে কোনো ভাতা পান না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা, শিক্ষকদের কাজের চাপ কমানো এবং পাঠদানের মান বজায় রাখতে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত অবহিত করা হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আস্থা বাড়বে। দীর্ঘদিনের এ সংকটের কার্যকর সমাধান হলে বিদ্যালয় পরিচালনায় গতি ফিরবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।