লোহাগড়ায় যাত্রী ছাউনির অসহায় নারী পেলেন ইউএনওর সহায়তায় আশ্রয়ের ঘর ও খাবার  | Daily AjKaler Kontho

লোহাগড়ায় যাত্রী ছাউনির অসহায় নারী পেলেন ইউএনওর সহায়তায় আশ্রয়ের ঘর ও খাবার 


কাজী ইমরান: লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
লোহাগড়ায় যাত্রী ছাউনির অসহায় নারী পেলেন ইউএনওর সহায়তায় আশ্রয়ের ঘর ও খাবার 

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আড়িয়ারা এলাকার অসহায় তিন সন্তানের জননী দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীপাশা যাত্রী ছাউনিতে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। তার অসহায়ত্বের বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুস্তাফিজুর রহমানের।

খবর পেয়ে ওই নারীর খোঁজখবর নেন ইউএনও। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে তার থাকার ব্যবস্থা করতে উপজেলার মাইটকুমড়া এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়।বৃহস্পতিবার (১অক্টোবর) দুপুরে ওই নারীকে ঘরের পাশাপাশি চাল, ডাল ও তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অসহায় ওই নারীর স্বামীর বাড়িতে তার যে অধিকার রয়েছে, সেটিও ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও চেষ্টা করা হবে।

ইউএনও আরও বলেন, “আপনারা বিভিন্ন জায়গায় যান। কোথাও কোনো অসহায় মানুষকে দেখলে আমাকে জানাবেন। আমি আমার সাধ্যমতো তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। মানুষের পাশে সবসময় আছি, থাকব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”

জানা গেছে, লক্ষ্মীপাশা যাত্রী ছাউনিতে ওই নারীর অসহায় অবস্থায় থাকার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আসে। পরে সাংবাদিক রাশেদের মাধ্যমে তার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে একটি ঘর ও খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করেন।

নতুন ঘর ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ওই অসহায় নারী। দীর্ঘদিন পর মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

৩৮ বছর বয়সী হাছনেয়ারা খানম বাগেরহাট সদর উপজেলার গোবরদিয়া গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তাঁর স্বামী নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আড়িয়ারা গ্রামের সুজন শেখ। দম্পতির সংসারে রয়েছে তিন সন্তান—১২ বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিন শেখ, ৬ বছর বয়সী মেয়ে নুসরাত জাহান রাফি এবং ২ বছর বয়সী শিশু আয়শা আক্তার রাফি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী সুজন শেখ স্ত্রী ও সন্তানদের ন্যূনতম খোঁজখবর ও ভরণপোষণ না দেওয়ায় চরম মানবিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন হাছনেয়ারা। একপর্যায়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দুই অবুঝ শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে লোহাগড়া চৌরাস্তার খোলা যাত্রী ছাউনিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তিনি। তাঁদের বড় ছেলে ইয়াসিন বর্তমানে লোহাগড়ার শামুকখোলা মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করছে এবং সে একটি এতিমখানায় আশ্রয়ে রয়েছে।