
বান্দরবান জেলাধীন আলীকদম উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও চেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শুধুমাত্র হামের উপসর্গ নিয়েই ভর্তি রয়েছে শতাধিক শিশু। অন্যান্য রোগীর সঙ্গে মোট রোগীর সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে যাওয়ায় হাসপাতাল জুড়ে দেখা দিয়েছে শয্যা, খাবার, কাপড় ও জনবলের তীব্র সংকট।
রবিবার সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, রোগীতে পরিপূর্ণ হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড। খালি নেই একটি বেডও। অনেক শিশু ও তাদের স্বজনদের মেঝে ও বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শিশুদের কান্না, উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা আর চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় হাসপাতাল জুড়ে তৈরি হয়েছে এক মানবিক সংকটের চিত্র।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ জানান, হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। স্থানীয়ভাবে শয্যা, চাদর ও খাবারের ব্যবস্থা করা গেলেও জনবল সংকটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রায় অর্ধেক জনবলকে দুর্গম ৪ নম্বর কুরুকপাতা ইউনিয়নে স্থাপিত অস্থায়ী ক্লিনিকে দায়িত্ব পালন করতে পাঠানো হয়েছে। ফলে মূল হাসপাতালে সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
আলীকদমের দুর্গম করুকপাতা ইউনিয়ন ম্রো অধ্যুষিত এলাকা। গত এক মাস ধরে সেখানে হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে শতাধিক লোকজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কুরুকপাতা ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরে পৌঁছাতে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়। ফলে অনেক পরিবার গুরুতর অসুস্থ শিশুকেও হাসপাতালে আনতে পারে না। এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবির মুখে গত ২৫ এপ্রিল সেখানে একটি অস্থায়ী ক্লিনিক স্থাপন করা হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, সময় মতো চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অতিরিক্ত জনবল, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরী সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি জনপদ আলীকদমে হামের এই প্রাদুর্ভাব এখন স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :