সিলেট-৬ আসনে ইতিহাস গড়ল বিএনপি, তিন দশক পর পুনরুদ্ধার | Daily AjKaler Kontho

সিলেট-৬ আসনে ইতিহাস গড়ল বিএনপি, তিন দশক পর পুনরুদ্ধার


ছাইম ইবনে আব্বাস, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ন
সিলেট-৬  আসনে ইতিহাস গড়ল বিএনপি, তিন দশক পর পুনরুদ্ধার

গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের মাঠে-ময়দানে, উঠোনে-আড্ডায়, দলীয় কার্যালয়ের নীরব দেয়ালে জমে ছিল অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস। সিলেট-৬ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা বুকের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন এক অদেখা বিজয়ের স্বপ্ন। অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারির রৌদ্রঝলমলে দুপুরে সেই স্বপ্নের রঙ ছড়িয়ে পড়ল দুই উপজেলায়। ফিরে এলো ধানের শীষ, ফিরে এলো উল্লাস।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমরান আহমদ চৌধুরী ৮ হাজার ৩৪৮ ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে আনেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট—যা শুধু একটি সংখ্যাই নয়, বরং তিন দশকের প্রতীক্ষার অবসান।

সিলেট-৬ আসনে সর্বশেষ বিএনপির জয় ছিল ১৯৯৬ সালে। এরপর ছয়বার আওয়ামী লীগ, দুবার জাতীয় পার্টি ও দুবার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ের মালা গলায় তুলেছেন। সময় বদলেছে, পাল্টেছে রাজনৈতিক দৃশ্যপট; কিন্তু গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের বিএনপির নেতাকর্মীদের অপেক্ষা শেষ হয়নি—এবার পর্যন্ত।

মনোনয়ন ঘিরে ছিল চমক। অন্তত অর্ধডজন হেভিওয়েট প্রার্থী প্রত্যাশী থাকলেও দল আস্থা রাখে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা এমরান আহমদ চৌধুরীর ওপর। প্রতীক বরাদ্দের পর হাতে ছিল মাত্র ১৫-১৬ দিনের ঝড়তোলা প্রচারণা। গ্রাম থেকে গ্রামে, পথসভা থেকে উঠান বৈঠকে—তার কণ্ঠে ভেসে উঠেছে আস্থার সুর। আর জনগণের অফুরন্ত ভালোবাসা তাকে পৌঁছে দেয় চূড়ান্ত বিজয়ের হাসিতে।

৫৮ বছর বয়সী এই আইনজীবী নেতা রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এমরান আহমদ ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম আহ্বায়কসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ২০২২ সালে প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে তিনি সংগঠনে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেন। সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবেও রয়েছে তার পরিচিতি।

এই বিজয় শুধু একটি আসন পুনরুদ্ধারের গল্প নয়; এটি প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস। এটি ত্যাগ, ধৈর্য আর সাংগঠনিক শক্তির সমন্বয়ে লেখা এক রাজনৈতিক উপাখ্যান।

ভোটের আগে তিনি বলেছিলেন, “গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের প্রতিটি গ্রামের সমস্যা আমার নখদর্পণে। উন্নয়নের কথা কেউ আমাকে আলাদা করে বলতে হবে না। ধারাবাহিকভাবে সব সমস্যার সমাধান করবো, ইনশা আল্লাহ।”

এবার তার চোখে উন্নয়নের নীলনকশা, কণ্ঠে প্রত্যয়ের দৃঢ়তা। দীর্ঘ ৩০ বছরের প্রতীক্ষা শেষে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে ফুটেছে বিজয়ের হাসি—ধানের শীষ আবারও দোল খাচ্ছে দুই উপজেলার বাতাসে।