জানা যায়, মইনুল হক কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ী উপজেলার সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার দোলাটারী গ্রামের বাসিন্দা। ২০২২ সালে গঙ্গারহাট এমএএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। সাবেক ছিটমহলের এই শিক্ষার্থী নানা প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটনের মাঝেও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যান।
ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও, ভর্তি কার্যক্রম শুরুর দিনই হারান তার দীর্ঘদিনের অসুস্থ পিতাকে। বাবার মৃত্যু ও অর্থনৈতিক সংকটে থমকে যায় তার স্বপ্ন।
এই কঠিন মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়ায় জবি শাখা ছাত্রশিবির। মইনুলকে ঢাকায় এনে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে দেয় তারা। পাশাপাশি সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার আবাসনেরও আশ্বাস দেওয়া হয়।
মইনুল হক বলেন, “ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ ছাত্রশিবির আমার ভর্তি ফি পরিশোধ করেছে। অন্যান্য সংগঠনও নিয়মিত আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।”
আবাসন প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আমার চাচা ঢাকায় থাকেন। আপাতত তাঁর সাথেই থাকছি, তাই আলাদা আবাসনের চিন্তা করছি না।”জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের যেকোনো দুর্দিনে আমরা পাশে থাকার চেষ্টা করি। মইনুলের বিষয়টি জানার পরই আমরা দ্রুত তার সাথে ও পরিবারের সাথে যোগাযোগ করি। তাকে ঢাকায় এনে ভর্তি সম্পন্ন করেছি। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আবাসনের ব্যবস্থাও করব ইনশাল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ থেমে যাক। প্রতিবছর অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দিয়ে থাকি। তবে তা প্রচারের জন্য নয়, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই।”
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “মইনুল যেন সফলতার সাথে পড়াশোনা শেষ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে, আমরা সেই প্রত্যাশাই করি।”
আপনার মতামত লিখুন :