Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৫:৪৭ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মে ৪, ২০২৫ , ৩:০৪ অপরাহ্ণ

কুড়িগ্রামের মইনুলের পাশে জবি ছাত্র শিবির : নিশ্চিত হলো ভর্তির সুযোগ

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ
জবি প্রতিনিধি: অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যখন অনিশ্চয়তায় পড়েছিল, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। তাদের সহায়তায় অবশেষে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেন কুড়িগ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী মইনুল হক।
জানা যায়, মইনুল হক কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ী উপজেলার সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার দোলাটারী গ্রামের বাসিন্দা। ২০২২ সালে গঙ্গারহাট এমএএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। সাবেক ছিটমহলের এই শিক্ষার্থী নানা প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটনের মাঝেও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যান।
ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও, ভর্তি কার্যক্রম শুরুর দিনই হারান তার দীর্ঘদিনের অসুস্থ পিতাকে। বাবার মৃত্যু ও অর্থনৈতিক সংকটে থমকে যায় তার স্বপ্ন।
এই কঠিন মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়ায় জবি শাখা ছাত্রশিবির। মইনুলকে ঢাকায় এনে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে দেয় তারা। পাশাপাশি সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার আবাসনেরও আশ্বাস দেওয়া হয়।
মইনুল হক বলেন, “ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ ছাত্রশিবির আমার ভর্তি ফি পরিশোধ করেছে। অন্যান্য সংগঠনও নিয়মিত আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।”
আবাসন প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আমার চাচা ঢাকায় থাকেন। আপাতত তাঁর সাথেই থাকছি, তাই আলাদা আবাসনের চিন্তা করছি না।”জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের যেকোনো দুর্দিনে আমরা পাশে থাকার চেষ্টা করি। মইনুলের বিষয়টি জানার পরই আমরা দ্রুত তার সাথে ও পরিবারের সাথে যোগাযোগ করি। তাকে ঢাকায় এনে ভর্তি সম্পন্ন করেছি। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আবাসনের ব্যবস্থাও করব ইনশাল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ থেমে যাক। প্রতিবছর অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দিয়ে থাকি। তবে তা প্রচারের জন্য নয়, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই।”
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “মইনুল যেন সফলতার সাথে পড়াশোনা শেষ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে, আমরা সেই প্রত্যাশাই করি।”
প্রিন্ট করুন