দিনাজপুর বড়মাঠ অবমুক্তের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি | Daily AjKaler Kontho

দিনাজপুর বড়মাঠ অবমুক্তের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি


জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর : প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৭, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ন
দিনাজপুর বড়মাঠ অবমুক্তের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

দিনাজপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী বড়মাঠ অবমুক্ত করে সর্বসাধারণের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে বড়মাঠ সাধারণ মানুষের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করা, মাঠটির ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা ও ব্যবহার বিবেচনায় নিয়ে সর্বসাধারণের জন্য মাঠ ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকারীদের সদস্য সচিব রেহাতুল ইসলাম খোকা বলেন, “দিনাজপুর শহরের সব বয়সী মানুষের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার অন্যতম প্রধান স্থান এই বড়মাঠ। কিন্তু মাঠটি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত থাকায় শিশু-কিশোর, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “একটি শহরের সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলার মাঠের বিকল্প নেই। দিনাজপুর শহরে বড়মাঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত স্থান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে আসছে।”

রেহাতুল ইসলাম খোকা আরও বলেন, “বড়মাঠ শুধু খেলাধুলার স্থান নয়, এর সঙ্গে দিনাজপুরের মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতিও জড়িয়ে রয়েছে। এটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ ময়দান হিসেবে পরিচিত। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ফলে মাঠটির ব্যবহার ও সংরক্ষণের বিষয়টি বৃহত্তর জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত।”

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বড়মাঠের ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনা করে মাঠটি সর্বসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাঠটি উন্মুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকারীরা আরও বলেন, দিনাজপুর শহরের জনসংখ্যা ও নাগরিক পরিধি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সঙ্গে উন্মুক্ত স্থান ও খেলার মাঠের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান বড়মাঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মাঠ সাধারণ মানুষের ব্যবহার থেকে সীমিত হয়ে পড়লে নাগরিক জীবনে এর প্রভাব পড়ে।

এ সময় তারা বড়মাঠের ঐতিহ্য ও জনসম্পৃক্ততা অক্ষুণ্ন রেখে মাঠটি অবমুক্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে মাঠটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ এবং খেলাধুলাসহ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

স্মারকলিপিতে বড়মাঠের ঐতিহ্য, ধর্মীয় গুরুত্ব, খেলাধুলায় এর ভূমিকা এবং সর্বসাধারণের দীর্ঘদিনের ব্যবহার বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।