৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযানের পর বদলি নজরুলের | Daily AjKaler Kontho

৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযানের পর বদলি নজরুলের


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযানের পর বদলি নজরুলের

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আল-বশিরুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

নজরুল ইসলাম এর আগে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৪৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

ওই প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শতভাগ সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হলেও মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের অধিকাংশ কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

প্রকৌশলী না হয়েও নজরুল ইসলামকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়ায় বান্দরবানে সমালোচনাও রয়েছে। প্রকল্পটির উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে।

এদিকে প্রকল্পটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ২০ সেপ্টেম্বর বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়। দুদক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান চলছে।

এর মধ্যেই প্রকল্প পরিচালক মো. নজরুল ইসলামের বদলির আদেশ আসে। জেলা পরিষদের একটি সূত্র দাবি করেছে, দুদকের অনুসন্ধানের মধ্যে নজরুল ইসলাম মন্ত্রণালয়ে তদবির করে দ্রুত বদলির ব্যবস্থা করেছেন। তবে এ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানা যায়নি।

এ ছাড়া ওই সূত্র আরও দাবি করেছে, ঘুষের বিনিময়ে বদলি আদেশ জারি করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রায় ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযান ও নথিপত্র জব্দের পর প্রকল্প পরিচালকের বদলির ঘটনায় বান্দরবানে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।