পূর্ব বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, রক্তাক্ত যুবক | Daily AjKaler Kontho

পূর্ব বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, রক্তাক্ত যুবক


ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ন
পূর্ব বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, রক্তাক্ত যুবক

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পূর্ব বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে দলবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. শাহিন শাহ (২৬) নামে এক যুবকের মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। তার মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার বৃদ্ধ বাবা ও স্ত্রীও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়নের কশিগাড়ী এলাকায়। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘোড়াঘাট থানায় এজাহার দিয়েছেন শাহিন শাহ।

এজাহারে শাহিন শাহ অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিষয় ও চলাচলের গলি-রাস্তা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে পূর্বে থানায় অভিযোগ করায় বিরোধ আরও তীব্র হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন তিনি রানীগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ির গলিতে পৌঁছালে অভিযুক্তরা লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও বাঁশের লাঠিসহ সেখানে অবস্থান নেয় এবং তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে।

অভিযোগে বলা হয়, শাহিনের বৃদ্ধ বাবা গালিগালাজে বাধা দিলে অভিযুক্তরা বাড়ির মূল লোহার গেট ভাঙচুর করে বসতবাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। পরে বাথরুম ও মুরগির শেড ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করেন বাদী।

এ সময় শাহিনের বাবাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মারধর এবং তার স্ত্রী রুজি বেগমকে কাপড় ধরে টানাটানি ও মারধরের মাধ্যমে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো—পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শাহিন শাহকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র বা লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা গুরুতরভাবে কেটে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলে অচেতন হয়ে পড়েন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে শাহিন শাহর মাথায় জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং আটটি সেলাই দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে অভিযুক্তরা মামলা করলে কিংবা পরবর্তীতে সুযোগ পেলে তাদের প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দেয়।

চিকিৎসাধীন থাকার কারণে এজাহার দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদী।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং জখমের ধরন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। এ ঘটনায় পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি