রাঙ্গামাটিতে ইফার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোচনা সভা | Daily AjKaler Kontho

রাঙ্গামাটিতে ইফার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোচনা সভা


আহমদ বিলাল খান, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৭, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ন
রাঙ্গামাটিতে ইফার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোচনা সভা

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জেলা কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ (মামুন)। সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ ইকবাল বাহার চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ বলেন, ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ৭ নভেম্বর দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিনের চেতনা জাতীয় ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসন, দমন-পীড়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যেন কখনো জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্ত হন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ ইতিহাসের আলোচিত অধ্যায়। এ দিনের তাৎপর্য অনুধাবনে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় ঐক্য, শান্তি, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি কালেক্টরেট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. আবুল হাশেম এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিলাইছড়ি উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আলী আহসান ভূঁইয়া।

আলোচনায় অংশ নেন মউশিক শিক্ষক সমিতি রাঙ্গামাটির সভাপতি মাওলানা মো. নোমান এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি মাওলানা মো. ইব্রাহিম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন শিক্ষক মাওলানা রহমত উল্লাহ। নাত পরিবেশন করেন শান্তিনগর জামে মসজিদের ইমাম মো. মোজাহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. পেয়ার আহমদ।

আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, ঐক্য ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আজকালের কন্ঠ/আর বি