ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় আবারও ২ দিনের রিমান্ডে এমপিপুত্র মিন্টু | Daily AjKaler Kontho

ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় আবারও ২ দিনের রিমান্ডে এমপিপুত্র মিন্টু


নাটোর প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ন
ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় আবারও ২ দিনের রিমান্ডে এমপিপুত্র মিন্টু

নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর আরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর মিন্টুকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আজ সোমবার দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড শুনানি শেষে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাকিল হত্যা মামলায় গ্রেফতার মিন্টুকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বর্তমানে তিনি ডিবি হেফাজতে রয়েছেন।

ওসি আরও বলেন, প্রথম দফার রিমান্ডে মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে আলামিন হোসেন (২৬) ও আনিসুর রহমান (২৫) নামের দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা কয়েকজন ব্যক্তি শাকিলের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম থানায় মামলা করেন।

পরিবারের সূত্র জানায়, হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাকিলের মৃত্যু হয়। ওই দিন রাত ১০টার দিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে এমপি আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে প্রথম দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মামলাটি বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। এদিকে মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

শাকিলের জানাজার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলের একটি শপিংমলে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমপি আবদুল আজিজের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এসব ঘটনায় নাটোর জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এমপি আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জেলা বিএনপিতে আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জেলা বিএনপি দীর্ঘ আট ঘণ্টার সভা করে। সভায় শাকিল হত্যা মামলায় তার ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে আলোচনা হয়।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, সব ঘটনা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। আবদুল আজিজ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা জেলা কমিটির নেই। তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি