
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তলন, শপথ পাঠসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড ২০২৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টায় বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির উদ্যোগে ও যবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের আয়োজনে বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড ২০২৭ এর শুভ উদ্বোধন করেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। যবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে রসায়ন অলিম্পিয়াডের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর শুরু হয় শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে সাতটি কলেজের অংশগ্রহণে শুরু হয় রসায়ন অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা শেষে সেরা দশ শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির বলেন, “ডিজিটাল আসক্তি এখন মারাত্মক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মোবাইলের এই নেশা ছেড়ে তোমাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। সবসময় বড় স্বপ্ন দেখবে, আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রম থাকলে তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন নোবেল বিজয়ী হওয়া সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “অলিম্পিয়াডের মতো প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, জানার আগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করাটাই আসল। রসায়নকে ভালোবেসে, আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে নিজেদের দক্ষ রসায়নবিদ ও দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলো।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, “কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের মতো আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো পাঠ্যবইয়ের জটিল বিষয়গুলোকে তোমাদের সামনে সহজ ও আনন্দদায়কভাবে তুলে ধরা। আমি আশা করি, তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অমর্ত্য সেন কিংবা আব্দুস সালামের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব ও নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী তৈরি হবে।” তিনি আরও বলেন, “একজন অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, সন্তান ও শিক্ষার্থীরা যখন নিজ নিজ যোগ্যতায় আমাদের ছাড়িয়ে অনেক বড় অবস্থানে পৌঁছায়, সেখানেই একজন শিক্ষক ও মা-বাবার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও গর্ব নিহিত থাকে। আশা করি তোমরা একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।”
অনুষ্ঠানে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কে. এম. আনিস-উল-হক এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন। এসময় রসায়ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক এবং অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :