রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ১৭ পরিবারের বসতভিটা বিলীন, কাঁচা ধান কাটছেন কৃষক | Daily AjKaler Kontho

রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ১৭ পরিবারের বসতভিটা বিলীন, কাঁচা ধান কাটছেন কৃষক


কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২০, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ন
রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ১৭ পরিবারের বসতভিটা বিলীন, কাঁচা ধান কাটছেন কৃষক

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও খেদাইমারী গ্রামের ১৭টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতবাড়ির পাশাপাশি ফসলি জমি, আমন ধান, ভুট্টাক্ষেত ও শাকসবজির আবাদ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভাঙনের কবল থেকে ফসল রক্ষায় অনেক কৃষক আগেভাগেই কাঁচা-পাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর শৌলমারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুখেরবাতি এলাকায় সাতটি এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খেদাইমারী গ্রামে ১০টি পরিবারের বাড়িঘর গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া চরে নতুন করে বাড়ি নির্মাণ করা আরও দুই ব্যক্তির বসতভিটাও ভাঙনের শিকার হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, ভাঙনে অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। বসতভিটা হারিয়ে কেউ খোলা আকাশের নিচে, আবার কেউ অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন। ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে।

তিনি জানান, স্থানীয় কৃষক ইউনুছ মোল্লার দেড় বিঘা আমন ধানের জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। একই এলাকার ছবুর প্রামাণিকের চার বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘা আমন ক্ষেত নদীগর্ভে চলে গেছে। এ ছাড়া খেদাইমারী এলাকার জমসের আলীর বসতভিটাসহ তিন বিঘা ধানি জমি বিলীন হয়েছে।

ভাঙনের শিকার জমসের আলী বলেন, “আমাগো বাড়িভিটাসহ তিন বিঘা জমি নদীতে গেছে। অহন আমি কি করুম! ধারদেনা করি মানুষের জমিতে ঘর উঠাইছি। সরকারি-বেসরকারিভাবে কেউ সহযোগিতা করে নাই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সঠিক তদারকি ও স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থার অভাবে সেগুলোও নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে নতুন করে নদীভাঙন তীব্র হয়েছে।

চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এইচ এম সাইদুর রহমান বলেন, সুখেরবাতি, খেদাইমারী ও সোনাপুর এলাকায় নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ব্লক নির্মাণের মতো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় শুধু জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোকে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রমও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারগুলোর নতুন করে ঘর নির্মাণ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “জরুরি কাজের জন্য এখন কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছেন।”

নদীভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া পরিবারগুলো দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।