
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং তাঁর স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াছমিন লুবনার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের অনুসন্ধানে নয়নের নামে ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকার সম্পদ ও ব্যয়ের হিসাব জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মামলা দুটির অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়েরের তারিখ, মামলা নম্বর ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নয়নের সম্পদ ও ব্যয়ের হিসাবে অসংগতি
দুদকের অনুসন্ধানসংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে ১ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার ৩২৫ টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়। এর সঙ্গে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়ের হিসাব যোগ করে মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ২ কোটি ৭৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭৯ টাকা।
অন্যদিকে, দায়-ঋণসহ বিভিন্ন খাত থেকে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯৩৭ টাকার গ্রহণযোগ্য আয়ের হিসাব পাওয়া গেছে বলে দুদকের অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। দুই হিসাবের পার্থক্য ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকা।
দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখা হয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়।
স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকার বেশি সম্পদের হিসাব
দুদকের অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, নয়নের স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াছমিন লুবনার নামে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ২৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪০ টাকার অস্থাবর সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়। দুই খাত মিলিয়ে সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪০ টাকা।
এর সঙ্গে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে ২০ লাখ ৪ হাজার ৭৪৯ টাকা যোগ করে মোট হিসাব দাঁড়ায় ১ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকা। দুদকের অভিযোগ, এই সম্পদ ও ব্যয়ের হিসাব তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। এ ছাড়া সম্পদ অর্জনে স্বামীর সহায়তার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা অনুমোদনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
দুই অভিযোগে অঙ্ক ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা
দুদকের অনুসন্ধানে উল্লিখিত দুই অঙ্ক যোগ করলে দাঁড়ায় ২ কোটি ৬২ লাখ ৫১ হাজার ২৩১ টাকা। তবে এই অঙ্ককে সরাসরি প্রমাণিত অবৈধ সম্পদের মূল্য বলা যাবে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট হিসাবের মধ্যে সম্পদ ও ব্যয়ের অঙ্ক রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
মামলার অগ্রগতি ও বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ
মামলা দুটির অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তদন্তের অগ্রগতি কী এবং আদালতে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও তাঁর স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াছমিন লুবনার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য ছাড়া অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
দুদকের অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
আপনার মতামত লিখুন :