রক্তদানে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে রাণীনগর সোশ্যাল ইয়ুথ অর্গানাইজেশন | Daily AjKaler Kontho

রক্তদানে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে রাণীনগর সোশ্যাল ইয়ুথ অর্গানাইজেশন


আব্দুল্লাহ আল মাহীদ, নওগাঁ : প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ন
রক্তদানে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে রাণীনগর সোশ্যাল ইয়ুথ অর্গানাইজেশন

নওগাঁর রাণীনগরে- রাণীনগর সোশ্যাল ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার বিল কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮০০+ জনের বেশি মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, রক্তের গ্রুপ জানার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করে সংগঠনটি। পাশাপাশি গ্রামের সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের সুযোগ করে দেওয়াও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আয়োজকরা জানান, অনেক মানুষ এখনো নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানেন না। অথচ দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রক্তের গ্রুপ জানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করতে এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।

ক্যাম্পেইনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের সুযোগ পান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও স্বেচ্ছায় রক্তদানের আগ্রহ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।

ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের জন্য খুবই উপকারী। অনেকেই নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানে না। এখানে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ জানতে পারার পাশাপাশি রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতন হওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আমরাও মানুষের প্রয়োজনে রক্তদানে এগিয়ে আসতে চাই।”

আরেক শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে এমন একটি আয়োজন করায় আমরা আনন্দিত। রক্তের গ্রুপ জানা প্রত্যেকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই রক্তদান সম্পর্কে সচেতন হলে ভবিষ্যতে আমরা মানুষের উপকারে আসতে পারব। এ ধরনের উদ্যোগ আরও হওয়া উচিত।”

বিল কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: খোরশেদ আলম বলেন, “শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এমন একটি উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের রক্তদান ও মানবিক কাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।”

রাণীনগর সোশ্যাল ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহীদ বলেন, “আমাদের সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা। অনেকেই এখনো নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানেন না। তাই শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে বিনামূল্যে এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীরা রক্তদানের গুরুত্ব বুঝুক এবং ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসুক। মানুষের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুন্না আহমেদ বলেন, “রক্তের অভাবে যেন কোনো মানুষকে চিকিৎসাসেবা পেতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই আমাদের এ উদ্যোগ। ৮০০ জনের বেশি মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করতে পারা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। এ আয়োজন সফল করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমরা ভবিষ্যতেও রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করে যেতে চাই।”

ক্যাম্পেইনে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহীদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুন্না আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ মিনা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাজু ইসলাম, সমন্বয়ক মোঃ সারোয়ার জাহান তৌফিক, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ রজব (সম্রাট), নাসিম শাহরিয়ার জয়, মোঃ রাকিব সরদার, মোঃ সালমান বাসারসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত থেকে ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করেন।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানতে পারছেন, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মানবিক কাজে অংশগ্রহণের মানসিকতা তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতেও রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।