শরীয়তপুরের সখিপুরে ভুয়া মৎস্য কর্মকর্তার পরিচয়ে চাদাবাজি | Daily AjKaler Kontho

শরীয়তপুরের সখিপুরে ভুয়া মৎস্য কর্মকর্তার পরিচয়ে চাদাবাজি


শরীয়তপুর প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ন
শরীয়তপুরের সখিপুরে ভুয়া মৎস্য কর্মকর্তার পরিচয়ে চাদাবাজি

মৎস্য কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে পদ্মা নদীতে জেলেদের নৌকা আটক করে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে একটি চক্র। এ চক্রের নেতৃত্বে শাহজালাল হাওলাদার ও তার দুই সঙ্গী সেলিম মোল্লা ও মোস্তফা মিজি জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় জেলেদের।

অভিযুক্ত শাহজালাল হাওলাদার তারাবুনিয়া ০২নং ওয়ার্ডের হজলক মান হাওলাদারের ছেলে, সেলিম মোল্লা তারাবুনিয়া ০৩নং ওয়ার্ডের শাহা মোল্যার ছেলে ও মোস্তফা মিজি চরভাগার ০৫নং ওয়ার্ডের খলিল মিজির ছেলে।

ভুক্তভোগীেরা জানায়, এর আগে শনিবার উত্তর তারাবুনিয়ায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া তিনটি নৌকা আটক করেন শাহজালাল ও মোস্তফা মিজি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে নৌকাগুলো নদীর তীরের দিকে ভেড়ানো হয়। পরে তিনজন জেলের কাছে ১ লাখ বিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে শাহাজালাল হাওলাদার। তখন লাল মিয়া বন্দুকসি ২০ হাজার টাকা, সুমন বিয়ারি ৩৭ হাজার টাকা এবং রহমত মোল্যা ৪০ হাজার টাকা শাহজালালের মোবাইল নম্বরে পাঠান। তিনজনের কাছ থেকে মোট ৯৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শাহাজালালের ব্যাক্তিগত মোবাইল নাম্বারে বিকাশে ৪০ হাজার করে ২ বারে ৮০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। টাকা পাঠানোর একটি প্রমান রিপোর্টারের হাতে এসেছে।

জানা যায়, টাকা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের নৌকার ব্যাটারি ও মাছ ধরার সরঞ্জামও নিয়ে গেছে চক্রটি। পরে বিষয়টি সখিপুর বাজারে স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এ নিয়ে দরবার বসে। এ সময় নৌকা থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মালামাল ও ১০ হাজার টাকা জেলেদের ফেরত দেওয়া হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, উত্তর তারাবুনিয়ায় ও পদ্মা নদীতে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। মৎস্য অফিসের অভিযানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরিচয় দেখিয়ে জেলেদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের সময় শাহজালালকে অস্থায়ীভাবে স্পিডবোট চালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এ পরিচয়কে কাজে লাগিয়েই নদীতে জেলেদের নৌকা আটক ও অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন জেলে।

জেলেদের আরও অভিযোগ, মৎস্য অফিসের অভিযানে জব্দ করা মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়েও অনিয়মের ঘটনা ঘটে। জব্দ করা কিছু সরঞ্জাম পরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পদ্মা নদী ঘিরে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করেন বহু পরিবার। নদী ও ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে এ অঞ্চলের মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কঠিন। ফলে নদীতে কোনো ব্যক্তি সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে জেলেদের আটক বা অর্থ আদায় করলে তারা সহজে প্রতিকার চাইতে পারেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

লাল মিয়া বন্দুকসি বলেন, “নদীতে নৌকা আটক করে টাকা দাবি করা হয়। পুলিশে দিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বাধ্য হয়ে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।”

সুমন বিয়ারি বলেন, “মৎস্য অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে আমাদের আটক করা হয়। পরে ৩৭ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। টাকা না দিলে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল।”

রহমত মোল্যা বলেন, “আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। নৌকার ব্যাটারি ও মাছ ধরার সরঞ্জামও নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে দরবার হওয়ার পর মালামাল ফেরত দেওয়া হয়।”

অভিযোগের বিষয়ে শাহজালাল হাওলাদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে সমাধান করা হয়েছে। আমি ১০ হাজার টাকা ও মালামাল ফেরত দিয়েছি।

উপজেলা মৎস্য অফিসার ইমরান হোসেন বলেন, পদ্মা নদীতে জেলেদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের ঘটনা শুনে আমি খুবই দুঃখ পেয়েছি। জেলেদের সর্তক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আগামী মা ইলিশ সংরক্ষণ মৌসুমে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত অনুসারে তদন্ত-পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

জেলা মৎস্য অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, শাহজালাল, মোস্তফা ও সেলিম নামে আমাদের কোনো মৎস্য অফিসার নেই। যদি মৎস্য অফিসের নামে জেলেদের জিম্মি করে কেউ টাকা আদায় করে তাহলে বিভাগীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি