
পটুয়াখালীর দুমকিতে পুরোদমে চলছে রোপা আমনের চারা রোপণ। অনুকূল আবহাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে জমি প্রস্তুত, চারা তোলা ও রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিতে বীজতলা তৈরিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও বর্তমানে মাঠের পরিস্থিতি ভালো থাকায় আমনের ফলন নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগ ও কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুমকিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর। তবে মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আবাদ ৬ হাজার ৬৮০ হেক্টর ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে পাঙ্গাশিয়া, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি প্রস্তুতের পাশাপাশি বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করছেন কৃষকেরা। শ্রাবণের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে উঁচু জমিতে চারা রোপণ শুরু হয়েছে। ভাদ্রের মধ্যে রোপণ শেষ করতে মাঠে ব্যস্ততা বেড়েছে।
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কৃষক আবদুল মজিদ হাওলাদার বলেন, “বোরো ধান কাটার পর একই জমিতে এখন আমনের চারা রোপণ করছি। বছরে তিনবার ফসল হয় এমন জমিতে আমাদের ব্যস্ততা বেশি।”
তবে বাড়তি উৎপাদন খরচ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন আঙ্গারিয়ার জলিশা এলাকার কৃষক সৈয়দ জিয়া উল হাসান। তিনি বলেন, ডিজেলের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় চাষাবাদে খরচ অনেক বেড়েছে।
দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে বীজ বুনতে কিছুটা সমস্যা হলেও বর্তমানে চারার অবস্থা ভালো। কৃষকদের উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-১০৩সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের ধান চাষে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে দুমকিতে আমনের ভালো ফলন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
আজকালের কন্ঠ/আর এস
আপনার মতামত লিখুন :