১৮ হাজার টাকার মদ খাইয়ে মিলনকে নাচতে বাধ্য করা হয়, সাথে চলে পৈশাচিক নির্যাতন | Daily AjKaler Kontho

১৮ হাজার টাকার মদ খাইয়ে মিলনকে নাচতে বাধ্য করা হয়, সাথে চলে পৈশাচিক নির্যাতন


এস এম তানবীর মাদারীপুর : প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৫, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ন
১৮ হাজার টাকার মদ খাইয়ে মিলনকে নাচতে বাধ্য করা হয়, সাথে চলে পৈশাচিক নির্যাতন

মিলনকে মাতাল বানিয়ে শুধু নাচতেই বাধ্য করেনি। তার সঙ্গে যে বিকৃত ও পৈশাচিক আচরন করা হয়েছে তা মানুষ কখনো করতে পারে না। তারা নিজেরা মাতাল হয়ে এক সঙ্গে নেচেছে। নাচের ফাঁকে ফাঁকে চলেছে বেত্রাঘাত। শরীর যখন আর পারতো না, মিলন মাটিতে লুটিয়ে পড়তেন। নাচ থামিয়ে দেওয়ার অপরাধে যে ভয়াবহ নির্যাতন চলতো সেই দৃশ্য সহ্য করার মতো না। মিলনের তলপেট এলাকা চেপে ধরা হতো পা দিয়ে। জোর করে দাঁড় করিয়ে ফের নাচতে বাধ্য করা হতো যতোক্ষণ না তাদের পৈশাচিক খায়েশ পুরণ হয়। লিবিয়া থেকে প্রাণে ফিরতে পারলেও আজও মিলন শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন তার ভয়াবহতা। এই মিলনের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈরে।

ইতালিতে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল মাদারীপুরের রাজৈরে বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম মিলনের। কিন্তু তার ঠিকানা হয় ইউরোপ নয়, মাফিয়াদের বন্দিশিবিরে। তিনি পশুর মতো বিক্রি হয়েছেন। ব্যবসায়ীরা যেভাবে পশু কম দামে পণ্য কিনে লাভে আরেকজনের কাছে বিক্রি করেন, মিলনও ছিলো সেইরকম হাটের পশু। হাতবদল হয়েছেন। আর শিকার হয়েছেন নির্যাতনের। কাছ থেকে দেখেছেন অনেককে নির্যাতন ও গুলিতে মারা যেতে।

ভাগ্য বদল করতে চেয়েছিলেন মিলন। কিন্তু জুটলো তার দুর্ভাগ্য। প্রথম টাকা দিয়েছেন ইতালির লোভে। লিবিয়ায় বন্দিদশায় পড়ে দফায় দফায় টাকা দিয়েছেন প্রাণ বাঁচাতে। দালালের খপ্পরে পড়ে ৪২ লাখ টাকা খুইয়েএক বছর আগে দেশে ফিরেছেন। জমিজমা সব গেছে। দেনাও হয়েছে অনেক। বন্ধ দুই সন্তানের পড়ালেখা। ঋণ শোধ করতে মিলন সন্তানদেরও শরবত বিক্রির কাজে লাগিয়েছেন।

মিলনের এই করুণ পরিণতির পেছনে ছিল চোরাইপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা। চোরাইপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা মানেই সাগরে ডুবে মরার ভয়। তাই মাফিয়ারা একে নাম দিয়েছে গেম। সেই গেইমের স্বপ্ন পুরণ হয়নি মিলনের। পাড়ি দেওয়া হয়নি ভূমধ্যসাগর। একদিন যে স্বপ্ন তাকে করেছিল ঘরছাড়া- আজ তিনি বুঝতে পারছেন তা কতো বড় ভুল ছিল। তিনি তো প্রাণ নিয়ে ফিরতে পেরেছেন, অনেকের সেই ভাগ্যও হয় না। অনেক বাবা মা সন্তানের লাশ পর্যন্ত দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না।

এতো কিছুর পরও দেশে বন্ধ হচ্ছে না মানবপাচার। আজও গেমের অপেক্ষায় শত শত বা হাজার হাজার তরুণ যুবা বিদেশে অন্ধকার গেমঘরে অপেক্ষা করছে। আর যারা জিম্মিদশায় আছেন, তারা প্রতিমূহুর্তে মুক্তি চাইছেন, আশায় আছেন প্রাণ নিয়ে দেশে ফেরার।