
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।আজ (১৭ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর এই স্মারকলিপি দেন ববি শাখা ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান, যেখানে মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাংবিধানিক, নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
“গত ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘অদম্য জুলাই’ র্যালি চলাকালে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উসকানি ছাড়াই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে র্যালিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। এ হামলার ফলে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হন এবং সমগ্র ক্যাম্পাসে আতঙ্ক, অনিরাপত্তা ও অস্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উক্ত ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ওপর দলবদ্ধ হামলা চালিয়ে তাঁদের আহত করা হয়েছে।”
এ ছাড়া তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সংঘটিত এ হামলার সময় এবং পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশিত। কিন্তু এ ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আস্থাহীনতার সৃষ্টি করেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা, সন্ত্রাস ও ভিন্নমত দমনের কোনো স্থান নেই। বরং জবাবদিহিতা, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।”
শিক্ষার্থীদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা এবং ক্যাম্পাসে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে তারা পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন। তাদের দাবিগুলো হলো—
১। হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে দোষী প্রমাণিত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।
২। হামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তি ও মদদদাতাদের শনাক্তকরণ এবং দায় নিরূপণের লক্ষ্যে অবিলম্বে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
৩। হামলায় আহত সকল শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ক্যাম্পাসে কেউ কোনো ধরনের হামলা, হুমকি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তার যথাযথ দায় গ্রহণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৫। উক্ত হামলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১৫ জনের অধিক নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এই সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে দ্রুত একটি কার্যকর তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এ ছাড়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, “আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। অন্যথায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও নীরবতা শিক্ষার্থীদের নিকট দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা হিসেবে প্রতীয়মান হবে এবং এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।”
আজকালের কন্ঠ/আর এস
আপনার মতামত লিখুন :